প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব সমালোচনা করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই হিংসা, বিদ্বেষ ও অবিবেচনাপ্রসূত। তিনি বলেন, এত অল্প সময়ের একটি সরকারের বিরুদ্ধে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি কোনো বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কাউন্সিল-২০২৬ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত জনবান্ধব ও সেবামুখী হতে হবে, যাতে সরকারি অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। বিশেষ করে প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমাতে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বেতন গ্রেড উন্নীত করার দাবি যৌক্তিক। তার মতে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো আগে সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে পরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হবে।
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির পক্ষেও মত দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ রাজনীতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রীদের মাসিক বেতন কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা হওয়া উচিত। তার দাবি, নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সহায়তার চাপ সামাল দিতে জনপ্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের আটটি বিভাগে আটটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতাল নির্মাণে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা অতীতে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, তারা এখনো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সক্রিয় রয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী একটি দেশের সহায়তায় সিভিল বা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও সরকারের উপসচিব মো. আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি আন্দোলনের সভাপতি তাসলিমা আখতার, জাতীয় শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজ, বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী সার্জন ডা. সাকিব শাহরিয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুসহ অন্যরা।