বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুর ট্রাক ও পেপার স্প্রে: ৭ দিনের রিমান্ডে জগলুল পাশা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর […]

খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুর ট্রাক ও পেপার স্প্রে: ৭ দিনের রিমান্ডে জগলুল পাশা

খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুর ট্রাক ও পেপার স্প্রে: ৭ দিনের রিমান্ডে জগলুল পাশা

ডেস্ক রিপোর্ট

০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৮

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৪ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার এজাহারভুক্ত ১৭ নম্বর আসামি জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়তা পাওয়া যাবে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

শুনানির সময় দুপুরে ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে জগলুল পাশাকে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। এ সময় তার মাথায় হেলমেট, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতে হাতকড়া ছিল। পরে আদালতের নির্দেশে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দিলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়ান।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, খালেদা জিয়া যাতে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে সমাবেশে যেতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পিপার স্প্রে ব্যবহার করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনার পরিকল্পনার সঙ্গে জগলুল পাশা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, জগলুল পাশা ৭১ বছর বয়সী এবং তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ঘটনার সময় তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন এবং ২০১৫ সালের ২ মার্চ অবসরে যান।

তিনি আরও বলেন, মামলার ঘটনার বিষয়ে জগলুল পাশা কিছুই জানেন না, এমনকি তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না।

শুনানি শেষে আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

আদালতে শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জগলুল পাশাকে মুচকি হাসতে দেখা যায়। পরে হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই বলার নেই। আমি কী বলবো।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত ১১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে অবস্থান করেন। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন এবং রাস্তা বন্ধ করে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকালে খালেদা জিয়া কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। একপর্যায়ে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়, এতে তারা আহত হন।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গুলশান থানায় মামলা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।