সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার এজাহারভুক্ত ১৭ নম্বর আসামি জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়তা পাওয়া যাবে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
শুনানির সময় দুপুরে ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে জগলুল পাশাকে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। এ সময় তার মাথায় হেলমেট, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতে হাতকড়া ছিল। পরে আদালতের নির্দেশে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দিলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়ান।
রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, খালেদা জিয়া যাতে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে সমাবেশে যেতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পিপার স্প্রে ব্যবহার করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনার পরিকল্পনার সঙ্গে জগলুল পাশা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, জগলুল পাশা ৭১ বছর বয়সী এবং তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ঘটনার সময় তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন এবং ২০১৫ সালের ২ মার্চ অবসরে যান।
তিনি আরও বলেন, মামলার ঘটনার বিষয়ে জগলুল পাশা কিছুই জানেন না, এমনকি তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না।
শুনানি শেষে আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
আদালতে শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জগলুল পাশাকে মুচকি হাসতে দেখা যায়। পরে হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই বলার নেই। আমি কী বলবো।’
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত ১১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে অবস্থান করেন। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন এবং রাস্তা বন্ধ করে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকালে খালেদা জিয়া কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। একপর্যায়ে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়, এতে তারা আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গুলশান থানায় মামলা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।