জনতা জেগে উঠলে বিএনপি পালানোর পথ পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। জনতা জেগে উঠলে পালানোরও পথ পাবে না বিএনপি। তারেক রহমান বাংলাদেশে ভালো কিছু দিতে পারবেন না। তারেক রহমানের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, ভবিষ্যৎ কেবল বাংলাদেশের জনগণের।
তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, তার পতন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার মতোই জনগণ তার বিচার করবে; এখানে কোনো নেগোসিয়েশন (আপস) হবে না। বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেই আমরা এগিয়ে যাব।
সমাবেশে পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিএনপির ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অতীতের রক্ষীবাহিনীর মিল দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধান করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক কিছু দিতে পারবেন না এবং দেশের জনগণই ভবিষ্যতের একমাত্র শক্তি। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার কোনো ব্যক্তির নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে পাটওয়ারী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেদিন দুপুর তখন ১২টা। সকাল থেকেই পুরো বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে ছিল। চারদিকে সেনাবাহিনী করিডোর দিয়ে রেখেছিল। আমি ও নাহিদ একটি বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। সকালবেলা আমরা বাইরে বের হতে চাইলে আমাদের সতর্ক করে বলা হয়, বের হলেই গুলি করা হবে।
পরিস্থিতি বুঝতে আমরা বাসার নিচে একজন শিক্ষককে পাঠালাম। তিনি নিচে দেখে এসে জানালেন, বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। সেদিন সকালে আমাদের অনেক ভাই শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলার জাগ্রত জনতা সব বাধা-ব্যারিকেড ভেঙে রাজপথে নেমে আসেন। শেখ হাসিনাকে পাঁচ মিনিটের সময় দেয়া হয়েছিল, হয় তিনি বাংলাদেশে জীবন দেবেন, না হয় ভারতে পালাবেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ না দিয়ে তিনি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্য তিনি জামায়াতের আমিরের প্রশংসাও করেন।
সমাবেশে পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ ও ঢাকায় হামলার কারণে তিনি ও তার সহযোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধার মুখে পড়েছিলেন। এসব ঘটনার জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন।
হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লড়াইটা এখন বাংলাদেশের সংস্কারের লড়াই, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লড়াই, শহিদদের বিচারের লড়াই। আপনারা আসুন, এই লড়াইয়ে অংশ নিন। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। ইসলাম আমাদের বাতিলের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়েছে। বাতিলের সঙ্গে কোনো নেগোসিয়েশন (আপস) নয়- এই শিক্ষা আপনারাই আমাদের দিয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন।