মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

তদন্ত কমিটির আপত্তির পরও ছাত্রত্ব ফিরল দুই ছাত্রদল নেতার

শেকৃবি প্রতিনিধি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) তদন্ত কমিটির নেতিবাচক অভিমত ও বিদ্যমান একাডেমিক বিধিমালার প্রশ্ন উপেক্ষা করে ছাত্রত্ব হারানো দুই ছাত্রদল নেতার পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলার আসামি এই দুই নেতাকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ায় ছাত্রদলের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, মানবিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একাডেমিক […]

তদন্ত কমিটির আপত্তির পরও ছাত্রত্ব ফিরল দুই ছাত্রদল নেতার

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৩ আগস্ট ২০২৬, ২২:৪৭

শেকৃবি প্রতিনিধি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) তদন্ত কমিটির নেতিবাচক অভিমত ও বিদ্যমান একাডেমিক বিধিমালার প্রশ্ন উপেক্ষা করে ছাত্রত্ব হারানো দুই ছাত্রদল নেতার পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলার আসামি এই দুই নেতাকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ায় ছাত্রদলের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, মানবিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একাডেমিক কাউন্সিল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তথ্যপ্রমাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুনর্বহাল হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. ফরহাদ হোসেন (রেজিস্ট্রেশন: ১৮-০৮৩৩৬) এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল মারুফ (রেজিস্ট্রেশন: ১৯-০৯৮৬৭)। ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। মারুফ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী এবং আসন্ন কমিটিকে ঘিরে নেতৃত্বে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৩তম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ এ বছরের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ৮৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হয়।

ফরহাদের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি তার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা করে মূল্যায়নে কোনো অসঙ্গতি পায়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তই যথাযথ ছিল। কমিটির ভাষ্য, অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত কমিটির নেতিবাচক সুপারিশের পরও একাডেমিক কাউন্সিল তার ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেয়।

মারুফের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট অনুষদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সাধারণ নিয়মে তারও ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে পিতৃহারা হওয়া, রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ, পড়াশোনা শেষ করার প্রবল আগ্রহ এবং দীর্ঘদিন অপেক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্পূর্ণ ‘মানবিক কারণে’ তাকে অনধিক পাঁচ বছর বা ১০ সেমিস্টারের জন্য লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ পুনঃভর্তির বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য কোনো ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ওই দুই ছাত্রনেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল সংক্রান্ত একাডেমিক কাউন্সিলের সভার আগে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রনেতার মতামত নেয়। সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা নিয়ে শান্ত থাকার অনুরোধও সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতাদের জানানো হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে ছাত্রদলের একাংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, অভিযুক্তদের রাজনীতি ছাত্রদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে এবং তাদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, ফরহাদ প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টার-২০১৮-এ ৭০ শতাংশের বেশি উপস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও অকৃতকার্য হন। ২০১৯ সালে পুনঃভর্তি হয়ে এজিইসি-১০৯ ও এজিসিএইচ-১০৭ কোর্সে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পান। এজিসিএইচ-১০৭-এ কৃতকার্য হলেও এজিইসি-১০৯-এ পুনরায় অকৃতকার্য হন। সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে ২০২০ সালে পুনঃভর্তি হয়ে এজিইসি-১০৯ কোর্সের পুনঃপরীক্ষাতেও অকৃতকার্য হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।

পরে একই বিষয়ে বারবার অকৃতকার্য হওয়াকে ‘পরিকল্পিত বৈষম্য’ দাবি করে তিনি ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করেন। আবেদনের পর তদন্ত কমিটি তার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা করে মূল্যায়নে কোনো অসঙ্গতি না পাওয়ার কথা জানায়। একই সঙ্গে অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী পূর্ববর্তী একাডেমিক কাউন্সিলের ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তই যথাযথ বলে মত দেয়।

অন্যদিকে, মারুফ প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টার-২০১৯-এ মাত্র ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ উপস্থিতি থাকায় চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। পরের বছর পুনঃভর্তি হয়ে ৭৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ উপস্থিতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিলেও সব কোর্সে অকৃতকার্য হন। এরপর সর্বশেষ সুযোগে ২০২১ সালে পুনঃভর্তির আবেদন না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।

২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর পুনঃভর্তির আবেদন করে মারুফ দাবি করেন, ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি ক্যাম্পাসে আসা, হলে থাকা এবং ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধার মুখে পড়েছিলেন। পাশাপাশি পিতার মৃত্যুর বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করেন। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।

তবে মারুফের রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। সহপাঠী, সিনিয়র ও জুনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মারুফ ২০১৯ সাল থেকেই নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করতেন। এমনকি ছাত্রত্ব হারানোর পরও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হলের সিট দখলে রেখে বসবাস করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে তিনি অনুষদভিত্তিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০২১ সালে নবাব সিরাজ উদ দৌলা হলের প্রীতিভোজ ও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ২০২২ সালে হলের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে তোলা ছবিতে তাকে দেখা যায়। ২০২৩ সালে নিজের জন্মদিনের আয়োজন করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষদভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেন। এসব অনুষ্ঠানের একাধিক গ্রুপ ছবিতে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়।

তার একাধিক সহপাঠীর দাবি, মারুফ নিয়মিত হলে থাকতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতেন। ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কোনো ঘটনার কথা তারা শোনেননি। তবে তার বাড়িতে রাজনৈতিক সমস্যা ছিল বলে তারা জানান।

একই ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রত্ব না থাকলেও মারুফ তাদের সঙ্গেই চলাফেরা করতেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে পড়াশোনা করায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেই তিনি বিভিন্ন খেলাধুলা ও সামাজিক আয়োজনে অংশ নিতেন।

উল্লেখ্য, ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে এক কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় ছয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় ১ নম্বর আসামি ফরহাদ এবং ৩ নম্বর আসামি মারুফ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও বিদ্যমান বিধিমালার আলোকে এ ধরনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা কতটুকু। তাদের মতে, প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব পুনর্বহাল ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি একই ধরনের একাডেমিক কারণে ছাত্রত্ব হারানো অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলার বাদী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী জানান, ওই মামলাটি প্রাথমিকভাবে নিষ্পত্তির কথা ভাবছেন অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা। তবে মামলাটি এখনো চলমান।

একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, “একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমরা যৌক্তিক এবং সব দিক বিবেচনা করে অভিমত দিয়েছি। তবে একাডেমিক কাউন্সিল যেহেতু বড় একটি হাউস এবং সেখানে অনেকের মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিল, সেক্ষেত্রে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে আমি সরে আসিনি।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, “একাডেমিক কাউন্সিলে তাদের পুনঃভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মানবিক ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তারা আবেদন করেছিল। তাই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) তাদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

শিক্ষাঙ্গন

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার

শেকৃবি প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৮

শেকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কৃষিবিদ সানোয়ার আলম সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

এদিকে যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আবু তাহের, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ মে ২০২৬, ২৩:০১

আবু তাহের, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ অফিসার শাম্মি আক্তার রুমি এবং বাংলালিংকের ইন্টার্ন (এইচআর) নোমান কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম জনি।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের কেস সমাধানের কৌশল, কৌশলগত চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান এবং কাঠামোবদ্ধ বিশ্লেষণ বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি শিহাব সারওয়ার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বড় কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। সেই পথে বিজনেস কেস কম্পিটিশনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই লক্ষ্যেই আমরা সেমিনারটি আয়োজন করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। আশা করছি শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পেয়েছে।’

উল্লেখ্য, সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থীঅংশ নেন।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।