রাবি প্রতিনিধি: মো. আতিকুর রহমান
গণভোটের রায়, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে।
রবিবার (৩২শে জুলাই) বা’দ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এটি জোহা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে রাবি শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, “বিএনপি সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আপনারা ৪৯ শতাংশ ভোট নিয়ে সরকার গঠন করলেও ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।”
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, “১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জনমতের মুখে মাত্র চার দিনের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল বিএনপি এবং পরবর্তীতে তা মেনে নিয়েছিল। আমরা আগেই বলেছিলাম, ‘চুপ্পু সাহেবকে রাখা যাবে না’।
পরবর্তীতে বিএনপিও তাঁকে সরাতে বাধ্য হয়। বিএনপি যদি এখনও জনগণের রায় না মানে, তবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। প্রয়োজনে আমরা আবারও শহীদ হতে প্রস্তুত, তবুও রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ ফারহান বলেন, “জুলাই বিপ্লবে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার তা অসাংবিধানিক দাবি করে অবস্থান পরিবর্তন করেছে।”
সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “জনগণের রায় যদি অসাংবিধানিক হয়, তবে বিএনপি সরকার কোন ভিত্তিতে নিজেদের সাংবিধানিক দাবি করে? তারা মূলত জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। অবিলম্বে গণভোট ও সংস্কারের পথ সুগম করা না হলে আমরা রাজপথে নেমেই এই অন্যায়ের উপযুক্ত জবাব দেব।”
এ সময় সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন শাখা শিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মী সহ শতাধিক
উপস্থিত ছিলেন।