জিয়াউর রহমান, পিরোজপুর প্রতিনিধি:
“সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো শিক্ষার্থী বাইরে থাকতে পারবে না। এ সময় কাউকে পাওয়া গেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হবে। আর রাত ১২টার পর বাইরে কাউকে পাওয়া গেলে তাকে থানায় নেওয়া হবে, কারণ তখন কোনো ভদ্রলোকের বাইরে থাকার প্রয়োজন থাকার কথা নয়।”
এমন মন্তব্য করেছেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী থানা সভাকক্ষে আয়োজিত মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধবিষয়ক কমিউনিটি পুলিশিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্দুরকানী কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহব্বত খান, জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী হোসেন,
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম ফারুক হোসাইন, জিয়ানগর সরকারি কলেজের প্রভাষক জাকারিয়া হোসেন, এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন গাজী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন, বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল তালুকদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান বলেন, “অপরাধী যে-ই হোক, সে কোনো দলের নয়; অপরাধীর একটাই পরিচয়—সে অপরাধী।” তিনি মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ইন্দুরকানী থানা পুলিশকে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রতিটি এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে। যেসব এলাকায় মাদক সেবন ও কেনাবেচা হয়, সেখানে নিয়মিত পুলিশি অভিযান ও টহল পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদক ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে তিনি নিজের সরকারি মোবাইল নম্বর সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে গোপন তথ্য সরাসরি জানানোর আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।