রাশিমুল হক রিমন, নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা
জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মা আনোয়ারা বেগমকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে হেলাল হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে। প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে অনুনয়-বিনয় করেও ছেলে-বউয়ের মন গলাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বরগুনার আমতলী পৌর শহরের লোচা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত হেলাল হাওলাদার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোচা গ্রামের আবুল হাসেম হাওলাদার ২০০৫ সালে মারা যান। এরপর তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম পাঁচ ছেলেকে নানা কষ্টে বড় করে তোলেন। প্রায় তিন বছর আগে তিনি তাঁর পাঁচ ছেলের নামে জমি লিখে দেন। এরপর ছেলেরা পর্যায়ক্রমে তাঁর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেন।
আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, তাঁর চতুর্থ ছেলে হেলাল হাওলাদারের বাড়ির সামনে থাকা কিছু জমি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার জন্য ছেলে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি ওই জমি ছেলের নামে লিখে দিতে রাজি হননি। শনিবার সকালে তিনি ছেলের বাড়িতে গেলে এ নিয়ে হেলাল ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনোয়ারা বেগমের ভাষ্য, প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে তিনি ঘরে ওঠার জন্য ছেলে ও পুত্রবধূর কাছে অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু তাঁকে ঘরে নেওয়া হয়নি। পরে খবর পেয়ে ভাতিজা আবু সালেহ মুছা তাঁকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
আবু সালেহ মুছা বলেন, ‘আমার ফুফু তাঁর পাঁচ ছেলেকে জমি লিখে দিয়েছেন। এখন কিছু জমি রয়েছে। ওই জমি চতুর্থ ছেলে হেলাল তাঁর নামে লিখে দিতে বলেন। কিন্তু ফুফু রাজি না হওয়ায় তাঁকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘পোলা আর বউ মোরে ধাক্কা দিয়া ঘর থেইকা বাইর কইরা দেছে। মুই বৃষ্টিতে ভিজ্যা কান্নাকাটি করছি। এরপরও মোরে ঘরে উঠায় নাই। মুই এর বিচার চাই।’
তবে মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হেলাল হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘পথের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছে। এ কারণে আমার অন্য চার ভাই ও মামারা মিলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. বায়েজিদ বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’