রাশিমুল হক রিমন, নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার আমতলীতে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে হাট বসায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষ। মহাসড়কের পাশে বসা হাট দ্রুত অপসারণ করে যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের এ কে স্কুল চৌরাস্তা থেকে বাঁধঘাট চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে নিয়মিত হাট বসে। প্রতি বুধবার হাটবারে মহাসড়কের দুই পাশে কাঁচাবাজার, ধান, মাছসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। এতে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আমতলী এ কে স্কুল চৌরাস্তা, বটতলা ও বাঁধঘাট চৌরাস্তার দুই পাশে মহাসড়কের ওপর ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসেছে। ক্রেতারাও মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছেন।
এতে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে। যানজটের কারণে পথচারীদেরও সড়ক পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিবলী শরীফ বলেন, ‘আমতলী এ কে স্কুল চৌরাস্তার যানজট ঢাকার যানজটকেও হার মানিয়েছে। অথচ এখানে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা নেই। দ্রুত সড়কের পাশ থেকে হাট অপসারণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা প্রয়োজন।’
অটোরিকশাচালক মো. জয়নাল আবেদীন ও শাহীন বলেন, এ কে স্কুল চৌরাস্তা, বটতলা ও বাঁধঘাট চৌরাস্তা এলাকায় যানজটে পড়লে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সড়কের পাশে হাট বসানোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষও ঠিকমতো সড়ক পার হতে পারছেন না।
বাসচালক মহিউদ্দিন মহসিন ও আলমগীর হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশে এভাবে হাট বসায় তাঁদের দুর্ভোগের শেষ নেই। যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়। এতে যাত্রীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তাঁরা দ্রুত এ কে স্কুল চৌরাস্তা, বটতলা ও বাঁধঘাট চৌরাস্তা এলাকা থেকে হাট অপসারণ করে মহাসড়ক যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কের পাশে হাট বসানোর বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং হাট থেকে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। এদিকে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের কার্যকর তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘দ্রুত ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কের পাশ থেকে হাট অপসারণ করা হবে।’