সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
বর্ষার পানিতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা ছোট্ট একটি খাল। সেই খালের ওপর বাঁশ দিয়ে সরু একটি সাঁকো। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন শত শত মানুষ। কারও হাতে বাজারের ব্যাগ, কারও কাঁধে কৃষিপণ্য, আবার কেউ স্কুলের পোশাক পরে বইয়ের ব্যাগ পিঠে নিয়ে হেঁটে চলছে।
সখীপুর উপজেলার মরিচকুঁড়ি ও বাসারচালা গ্রামের মানুষের কাছে এটাই নিত্যদিনের বাস্তবতা।
উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি গ্রাম থেকে কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র সংযোগপথে এখনো কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। মাঝখানে থাকা মরিচকুঁড়ি জোড়া (ছোট খাল) পার হতে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা বাঁশের তৈরি একটি সাঁকো।
স্থানীয়রা জানান, সাঁকো দিয়ে হেঁটে পার হতে মাত্র ৫- ৭ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু বিকল্প পথে মহানন্দপুর হয়ে ঘুরে যেতে হলে সময় লাগে প্রায় আধা ঘণ্টা। তাই ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হন দুই গ্রামের মানুষ।
কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে ধান, হলুদ, কচু, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু বাঁশের সাঁকো থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে কৃষকদের মাথায় বা ভ্যানে ঘুরপথে কৃষিপণ্য বহন করতে হয়, এতে সময় ও পরিবহন ব্যয়—দুটিই বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা তৌফাজ্জল হোসেন বলেন, একটা সেতু হলে দুই গ্রামের মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে। কৃষিপণ্য সহজে বাজারে নেওয়া যাবে, রোগী ও শিক্ষার্থীদেরও আর এত দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, বর্ষাকালে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পানির স্রোতে বাঁশ নড়ে যায়, কখনো ভেঙেও যায়। তখন ছোট শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের পারাপার করতে খুব ভয় লাগে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে আশ্বাস মিললেও ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবে রূপ নেয় না।
কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, মরিচকুঁড়ি জোড়ার ওপর একটি ছোট আরসিসি সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।