দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি বলেছেন, দুর্যোগের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের পাশ ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা সড়ক রয়েছে। বন্যার স্রোতে কোথাও সড়ক ভেঙে গেছে, আবার দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় কোথাও সড়কের পিচের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে জরুরি পণ্য, খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত সড়কগুলো মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
তিনি জানান, স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে আপাতত অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে টেকসই পুনর্নির্মাণকাজ করা হবে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যার কারণে কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণে কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও বিকল্প সড়ক ব্যবহার ও জরুরি সংস্কারের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নতুন সড়ক প্রকল্পে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল নির্মাণপদ্ধতি, টেকসই উপকরণ ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বিশেষ সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।