জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন কোনো অটোপাসের দাবি বা পরীক্ষা বাতিলের উদ্দেশ্যে নয়; বরং বন্যা, জলাবদ্ধতা ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাস্তব সমস্যার সমাধানের দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শিক্ষার্থীরা চায় না বন্যার পানি বা জলাবদ্ধতা পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হোক। একই সঙ্গে বারবার পরিবর্তিত পরীক্ষা-পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ‘গিনিপিগ’ও হতে চায় না। তার ভাষায়, এটি একটি যৌক্তিক, মানবিক এবং ন্যায্য আন্দোলন।
তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের আন্দোলনে নামেনি। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেপ্তারের হুমকি এবং হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের বক্তব্য শুনে যৌক্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী নয়। ভিন্নমত প্রকাশের কারণে তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করে সামাজিক ও মানবিকভাবে হেনস্তা করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
পোস্টের শেষাংশে তিনি সরকারকে সংযম, সংলাপ ও সমাধানের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। অন্যথায়, একটি সমাধানযোগ্য সংকট অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের পরামর্শকে ‘উসকানি’ বা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে না দেখে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।