শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
স্মার্টফোনের ছোঁয়া আর ইন্টারনেটের দ্রুতগতির জোয়ারে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের চিরচেনা অনেক ঐতিহ্য। প্রযুক্তির এই আগ্রাসনে বগুড়ার শেরপুর থেকেও কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এক সময়ের অতি পরিচিত ডাকঘরের ‘চিঠি ফেলার লাল বাক্স’।
এক সময় শেরপুর শহরের ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি জরাজীর্ণ দেওয়ালে ঝুলতে দেখা যেত এই লাল রঙের চিঠি ফেলার বাক্সটি। প্রতিদিন কতশত মানুষ প্রিয়জনের কাছে মনের আবেগ, সুখ-দুঃখের কথা লিখে খামে ভরে সযত্নে ফেলে যেতেন এই বাক্সে।
রানার এসে বাক্স খুলে চিঠি নিয়ে যেতেন গন্তব্যে। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিঠির প্রচলন কমে যাওয়ায় বাসস্ট্যান্ড এলাকার সেই পরিচিত বাক্সটি আজ আর নেই। সেখান থেকে এটি পুরোপুরি অপসারণ করা হয়েছে কিংবা অবহেলায় হারিয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, “এক সময় এই লাল বাক্সের দিকে আমরা চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতাম। পিয়ন কখন আসবে, চিঠি কখন বিলি হবে, সেই অপেক্ষার মাঝে একটা অন্যরকম আনন্দ ছিল।
এখন সবার হাতে মোবাইল ফোন, মেসেজ বা ইমেইলেই সব যোগাযোগ হয়ে যায়। তাই চিঠির জাদুকরী টান আর নেই, আর সেই সাথে হারিয়ে গেছে এই লাল বাক্সগুলোও।”
বর্তমানে শেরপুর শহরের অলিতে-গলিতে বা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আর এমন ডাকবাক্স চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মের কাছে এই লাল বাক্সটি এখন কেবলই পাঠ্যবইয়ের পাতা কিংবা ছবির ফ্রেমে বন্দি এক ইতিহাস। চিঠির প্রচলন কমে গেলেও, ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এই ডাকবাক্সগুলোকে টিকিয়ে রাখা যেত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রযুক্তির ভিড়ে চিঠি লেখার সেই সোনালী অতীত হয়তো আর ফিরবে না, তবে শেরপুরবাসীর স্মৃতিতে বাসস্ট্যান্ডের দেওয়ালে ঝুলে থাকা সেই ‘লাল বাক্সটি’ চিরকাল এক টুকরো নস্টালজিয়া হয়েই থাকবে।