নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনা করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়ে অংশীজনদের সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এ সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার জন্য নতুন সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পাওয়া সুপারিশগুলো কমিশন মূল্যায়ন করছে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা যায়। আগামী দুই দিনের সংলাপে পাওয়া মতামতও এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সামনে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিধি ও নীতিমালা সংস্কারে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল ও কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ জমা দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের সঙ্গে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে।
ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নির্বাচন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।