বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।
বৈঠকের শুরুতে সালাহউদ্দিন আহমদ গত জানুয়ারিতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।
১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নমনীয় করার আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে এ বাণিজ্য আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ আমদানির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।