শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভাঙনের ভয়, বিচ্ছিন্ন জীবন—স্থায়ী সমাধান চায় চরাঞ্চলের মানুষ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি  মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ,পঁচিশ বছর পর থেকে এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি—দিঘীরপাড়ে একটি সেতু নির্মাণ, চরাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পাকাকরণ। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও এসব দাবি […]

ভাঙনের ভয়, বিচ্ছিন্ন জীবন—স্থায়ী সমাধান চায় চরাঞ্চলের মানুষ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৫

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি 

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ,পঁচিশ বছর পর থেকে এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি—দিঘীরপাড়ে একটি সেতু নির্মাণ, চরাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পাকাকরণ।

কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

দিঘীরপাড়ের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে মুন্সিগঞ্জের চরবাংলাবাজার এবং শরীয়তপুর জেলার শিলই, নওপাড়া, চরআত্রা, কাঁচিকাটা, কুন্ডেরচর, কোরবি, মনিরাবাজ, চাঁদপুর জেলার চরাঞ্চলের একাংশ এবং কুমিল্লা জেলার চরাঞ্চলের একাংশ।

স্থানীয়দের মতে, এসব এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১০টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এই যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। একটি সেতু, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও পাকা রাস্তা নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াতের কষ্টই কমবে না, বরং শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

৭ জুন ২০২৬ মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং নদীভাঙনের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখেন।

১১ জুন ২০২৬ উন্নয়নের বৈষম্যের অবসান এবং চার দফা দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চরাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী, যুব সমাজ ও আলেম সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, উন্নয়নের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, “সেতু ও পাকা রাস্তার অভাবে আমাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো খুবই কঠিন। অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াতের কষ্টে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। উন্নয়নের অভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও পিছিয়ে পড়ছে।”

কৃষক আব্বাস খালাসী বলেন, “আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে নদী পার হতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ হয়, সময় নষ্ট হয়, অনেক সময় পণ্য নষ্টও হয়ে যায়। একটি সেতু ও পাকা রাস্তা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং এলাকার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”

যুব সমাজের একজন প্রতিনিধি আক্তার গাজী বলেন, “প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে ভাঙন রোধ হবে। আমরা আর শুধু আশ্বাস চাই না, দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।”

২১ জুন ২০২৬ যুব সমাজ ও আলেম সমাজের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়। এতে সেতু নির্মাণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ এবং পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবি তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

৪ জুলাই ২০২৬ মুন্সিগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল সালাম আজাদ এমপি দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় যুব সমাজ ও আলেম সমাজ তাঁর হাতে স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর তুলে দেন। তিনি এলাকাবাসীর দাবিগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে বিষয়টি উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো এমপি -ও নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন।

স্থানীয়দের দাবি, এই অঞ্চলে পাকা রাস্তা ও সেতুর অভাবে শিক্ষার হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। শিক্ষার্থীদের অনেক দূর নৌপথে যাতায়াত করতে হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ও সময়ের কারণে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ফলে উন্নয়নের অভাবে এই চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিঘীরপাড় ও আশপাশের চরাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা হবে। এখন তাদের একটাই প্রশ্ন—বারবার আশ্বাস নয়, কবে বাস্তবে নির্মিত হবে দিঘীরপাড়ের সেতু, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়ক? লক্ষাধিক মানুষ এখন সেই উত্তর ও বাস্তব পদক্ষেপের অপেক্ষায়।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।