মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি যুক্তরাজ্যের ৭০ জন এমপির

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির বিচারমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাজ্য (ইউকে) সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ডজন খানেক আইনপ্রণেতা। স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দলের অন্তত ৭১ জন সংসদ সদস্য (এমপি) ও পিয়ার এ বিষয়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ইভেট […]

নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি যুক্তরাজ্যের ৭০ জন এমপির

নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি যুক্তরাজ্যের ৭০ জন এমপির

ডেস্ক রিপোর্ট

০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির বিচারমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাজ্য (ইউকে) সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ডজন খানেক আইনপ্রণেতা। স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দলের অন্তত ৭১ জন সংসদ সদস্য (এমপি) ও পিয়ার এ বিষয়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে পাঠানো ওই চিঠিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি ও সাতজন পিয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ও সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নির্যাতনের চূড়ান্ত দায়ভার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েল সরকারের ওপরই বর্তায়।

আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপারকে ইসরায়েলের এই ‘শাস্তিহীনতা বা দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান’ ঘটাতে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের উপ-প্রধানমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইয়ারিভ লেভিনের (Yariv Levin) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার আহ্বান জানান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তা ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরায়েল সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ‘খুব সামান্যই ভূমিকা’ রেখেছে। বরং এরপর থেকে কোনো প্রকার শাস্তি ছাড়াই এই নির্যাতনের মাত্রা ‘আরও বহুগুণ বৃদ্ধি’ পেয়েছে।

এই প্রসঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। যেখানে বলা হয়েছিল, হেফাজতে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, গণহত্যা, জীবনধারণের সব উপায় ধ্বংস ও বঞ্চনার এক নিরলস অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের দমন ও শাস্তি দেওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার ও ব্রিটিশ নাগরিকদের আটক

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগে ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে ধর্ষণের অভিযোগের একটি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে খোদ নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন। এছাড়া, দুই মাস আগে যখন ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক একটি ত্রাণবাহী নৌবহর গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ও ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেটিকে বাধা দিয়েছিল, তখন বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিককে অন্যায়ভাবে সেখানে আটক করা হয়েছিল।

এই চিঠিতে যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি, প্লেইড কামরি, সিন ফেইন , এসডিএলপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি একজন কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল পার্টির এমপি-ও স্বাক্ষর করেছেন।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের এক মুখপাত্র স্কাই নিউজকে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের রিপোর্টগুলো অত্যন্ত লজ্জাজনক ও আমরা ইসরায়েল সরকারের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি। সব বন্দির সঙ্গে মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে আচরণ করতে হবে এবং যে কোনো ধরণের নির্যাতন বা দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া আবশ্যক। যুক্তরাজ্য ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা ‘আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি’-কে অবিলম্বে ও কোনো বাধা ছাড়াই সব বন্দিশালায় প্রবেশের অনুমতি দেয়।

মুখপাত্রটি আরও যোগ করেন, শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মাসের পর মাস ইসরায়েলি হেফাজতে আটকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি

গত মার্চ মাসে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকা আলবানিজ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া তার প্রতিবেদনে বলেছিলেন, ইসরায়েলি কারাগার ব্যবস্থা মূলত এক ধরণের ‘পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতার পরীক্ষাগারে’ পরিণত হয়েছে। যেখানে বোতল, লোহার রড ও ছুরি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের নারীদের ওপর নির্যাতন করার মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ইসরায়েলি হেফাজতে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তবে এটি ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, প্রকৃত চিত্রটি এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালন্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০৪৯

আন্তর্জাতিক

মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে, ‘হারিয়েছেন পা’

ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পা গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এসব থেকে সেরে উঠতে এখনো তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ মহলের তিনজন ব্যক্তির বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলায় খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর জখম হয়েছে। […]

নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৮

ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পা গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এসব থেকে সেরে উঠতে এখনো তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ মহলের তিনজন ব্যক্তির বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলায় খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর জখম হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেছেন, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি তার ক্ষত থেকে সেরে উঠছেন। মানসিকভাবে তিনি তীক্ষ্ণ আছেন।

সূত্রের দুইজন ব্যক্তি বলেছেন, অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোজতবা খামেনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং প্রধান প্রধান ইস্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছেন। এসব ইস্যুর মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও রয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত নিতে মোজতবা খামেনির শরীর-স্বাস্থ্য কতটা উপযুক্ত- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মোজতবার ঘনিষ্ঠ মহলের ব্যক্তিদের ভাষ্যে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার সবচেয়ে বিশদ বর্ণনা পাওয়া গেছে। তবে রয়টার্স এসব ভাষ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়। তবে সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা।

এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে সেইদিনের পর থেকে মোজতবা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেননি। তার ভিডিও, অডিও বা কোনো ছবিও প্রকাশ পায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-মার্কিন বাহিনীর প্রথম দফার হামলায় মোজতবা আহত হয়েছেন। তবে তার আহত হওয়া নিয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, সম্ভবত তিনি পঙ্গু হয়েছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ধারণা করা হচ্ছে মোজতবা খামেনি একটি পা হারিয়েছেন। তবে মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০৪৯

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০৪৯

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০৪৯