পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি লঞ্চঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যাওয়া একটি ফিশিং ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেছে।
এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, স্থানীয় জেলে, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. এমদাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ট্রলারটি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায়। পরে বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে মোট ১১ জন জেলে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের মো. হারুন হাওলাদার (৪৭), পশ্চিম তুলারাম গ্রামের মো. এমদাদুল খাঁ (৪৫), গজালিয়া ইউনিয়নের ইছাদী গ্রামের মো. সায়েম (১৯), মো. ফোরকান সিকদার (৪৫) ও মো. আল-আমিন (৩২) এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ (১৮)।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণেই ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে ডুবে যায়। দুর্ঘটনায় ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলে, মাছ ধরার ট্রলার, গলাচিপা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া সবাই গলাচিপা উপজেলার বাসিন্দা।
এদিকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুরের স্থানীয় প্রতিনিধি আবু নাইম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী, পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম, পৌর যুব অধিকার পরিষদের
নেতা আবুল হোসেন আকাশ, উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আরিফ বিল্লাহ, গণ অধিকার পরিষদের পানপট্টি ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক মো. দুধা মিয়া ও সদস্য সচিব আবুল বাসারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আবু নাইম জানান, প্রতিমন্ত্রী নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিখোঁজরা দ্রুত জীবিত উদ্ধার হবেন।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর ভিডিও কলে ট্রলারডুবিতে বেঁচে যাওয়া ট্রলার মালিক এমদাদুল সিকদারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত ঘটনা শোনেন এবং উদ্ধার হওয়া ও নিখোঁজ জেলেদের খোঁজখবর নেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে নিয়মিত তাঁকে অবহিত রাখতে তাঁর প্রতিনিধি আবু নাইমকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
তাই ছোট আকারের ট্রলার নিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আহত জেলে এবং নিখোঁজ ৬ জেলের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।