২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জুলাই-আগস্টজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই সংঘটিত দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক গুরুত্ব পায়, যা গণঅভ্যুত্থানকে আরও বেগবান করে। এ উপলক্ষে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। একই দিনে কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
সরকার জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালনের মধ্য দিয়ে মূল রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। এদিন ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। পাশাপাশি আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ জুলাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা স্মরণে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ বা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এছাড়া ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ স্মরণে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা, আলোচনা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো আগস্টজুড়ে গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা তুলে ধরা হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এই অধ্যায় পৌঁছে দেওয়াই এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।