ঢাকা ওয়াসার উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জনদুর্ভোগ। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক কাটার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে গর্ত করে চারপাশ টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, ফলে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে নবাববাড়ী মোড়সহ আরও কয়েকটি এলাকায়, যেখানে খোলা গর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক কাটার কাজ চললেও তার গতি অত্যন্ত ধীর। কোথাও একদিন কাজ করে দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে, কোথাও আবার মাসের পর মাস একই অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তা। পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড না থাকায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, বৃষ্টির সময় কাটা সড়কে পানি জমে দুর্ঘটনা বাড়ছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রী যথাযথভাবে না সরিয়ে এলোমেলোভাবে ফেলে রাখায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির বড় অংশই বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত এবং আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিদেশি ঠিকাদার কাজ করছে। তিনি জানান, কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং একেক এলাকায় অল্প সময়ের জন্য সড়ক কেটে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, জরুরি পানির চাহিদা পূরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এসব কাজ করা হচ্ছে। তিনি সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।
তবে নগরবাসীর অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দীর্ঘদিন ধরে চলা সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে—এ প্রশ্নই এখন নগরবাসীর প্রধান উদ্বেগ।