নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সরকারি ভবনের ভেতর ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র রায় তার ছেলের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান করায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৯ জুন (শুক্রবার) স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের ভেতর আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তার আত্মীয়-স্বজন, আশপাশের কয়েকটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে রান্নাবান্না করতে দেখা যায়।
সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজন কতটা বিধিসম্মত এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, অনুষ্ঠানের বিষয়টি নীলফামারী জেলা স্যারকে অবহিত করেছি, তিনি জানেন এবং দাওয়াতে দিয়েছি তিনি আসতে পারবেন না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।তিনি এও জানিয়েছেন ভোগডাবুরী ইউনিয়নের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেনেকেও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ভোগডাবুড়ি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রকে ঘিরে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ছাদে ছাগল ও চীনা হাঁস পালন ও চিনা হাস বিক্রি, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে পশুখাদ্যের জন্য ঘাস চাষ এবং সরকারি ভবন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পলাশচন্দ্রকে ছাগল পালনের বিষয় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপর তলাটি তার বাড়ি, যতদিন এখানে চাকরিরত রয়েছেন ততদিন তিনি এটিকে বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং তিনি তার বাড়িতে ছাগল হাঁস পালন করতেই পারেন। এটাতে কোন সমস্যার কিছু নেই।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান আরিফ বসুনিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আপনি এর আগেও আমাকে অবগত করেছেন আমি গিয়েছিলাম ওনাকে বলেছিলাম ছাগলের সংখ্যা কমানোর জন্য।
খামার আকারে যেন ছাগল পালন করা না হয়। আমি আবারো যাব সেখানে। পাশাপাশি অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি জানান, আমার কাছে তিনি ছুটি নিয়েছেন, তিনি তো হইহুল্লোড় করে সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারেন না, যাতে জরুরী সেবা নিতে এসে কেউ যেন সমস্যায় না পরে, বিষয়টা আমি দেখবো।