দেশে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন,
রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া কোনো চাঁদাবাজ চক্র কিংবা বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তাই এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের রয়েল পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তা জনগণ জানে। চাঁদাবাজি কমছে না বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।”
তিনি মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি নিজেদের কর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সামাজিক অপরাধ থেকে বিরত রাখতে না পারে, তাহলে সেই দলের রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
দেশের বাজারব্যবস্থা ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, সরকার বিভিন্ন পণ্যে কর কমানোর উদ্যোগ নিলেও তার সুফল সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। কারণ বাজারের নিয়ন্ত্রণ এখনো বিভিন্ন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের হাতে। তিনি বলেন, “কিছু গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। তারা এই সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।” তার মতে, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করতে হবে এবং অন্যায়, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশিশক্তির আধিপত্যের বিরুদ্ধে নির্ভীক অবস্থান নিতে হবে। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভুলত্রুটি ও অসঙ্গতি সাহসের সঙ্গে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন। সেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমান বিচার পাবে। রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।” তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ করাই হওয়া উচিত দেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রধান লক্ষ্য।