বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ১২ জুন বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হলেও তার আগের রাতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান। পরে স্বজনদের মাধ্যমে তাকে নিখোঁজ দেখিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানো হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।