মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের শাজাদপুর পৌর শহরের শক্তিপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র উদ্বোধনের পর থেকেই চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সম্প্রতি সাড়ে ৯ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এই কারণে তীব্র গরমে ও প্রয়োজনীয় আলো না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না জনসাধারণ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে গালা ইউনিয়ন, গারাদহ ইউনিয়ন ও কায়েমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১১ জুন) দুপুরে সরেজমিনে শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতাল ভবনটি ফাকা ফাকা। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে রোগী ও নবজাতকদের কষ্ট বেড়েছে। ফ্রিজে রাখা টিকা ও জরুরি ওষুধ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আবছা আলো ও অন্ধকারে নিজ কক্ষে বসে রয়েছেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছাঃ খাদিজা পারভীন ও ফার্মাসিস্ট মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এসময় হাসপাতালে কোন চিকিৎসা প্রত্যশীকে দেখা যায়নি।
৩ তলা হাসপাতাল ভবনটি ঘুরে দেখা যায়, এম আর রুম, আল্ট্রাসাউন্ড রুম, অপারেশন থিয়েটারে, রোগীদের কক্ষ সহ ২য় ও তৃতীয় তলার প্রতিটি কক্ষ বন্ধ দেখা যায়। কোটি টাকা মুল্যের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেশিন অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালের বেডগুলো খালি পড়ে রয়েছে।প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতার অভাবে নোংরা পরিবেশ ও ময়লার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রসূতি মাকে মোমবাতি জ্বালিয়ে ডেলিভারি করাতে হচ্ছে। ইনকিউবেটর, সাকশন মেশিন কিছুই চালাতে পারছি না।
পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছাঃ খাদিজা পারভীন ও ফার্মাসিস্ট মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকায় গত বুধবার পল্লী বিদ্যুৎ এর লোকজন এসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তারা শিকার করেন যে বিগত ৩ বছর হাসপাতালের আবাসিক ভবনের অবস্থানরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাসপাতালের মিটার থেকে সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছ।
বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা নবজাতক শিশু ও গর্ভবতী নারীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে, এভাবে সেবা দিতে আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, এই হাসপাতালে পরিবার কল্যাণ মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৭ জনের পদ থাকলেও ৬ জন দিয়ে চলছে এই হাসপাতাল। কিছুদিন পূর্বে মেডিকেল অফিসার অবসরে যাওয়ার কারণে সেই পদে এখন পর্যন্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এই বিষয়ে শাজাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের ৯ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯১৬ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত বুধবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এছাড়াও গালা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০১ টাকা, তালগাছি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩৮ হাজার ৩১১ টাকা, কায়েমপুর স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের ২৫ হাজার ৬৪ টাকা বকেয়া থাকায় বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ হাসান তারেক বলেন, শক্তিপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিলের জন্য কোন বরাদ্দ নেই। কোয়ার্টারে আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় হাসপাতাল থেকে সংযোগ নিয়ে এতো দিন ব্যবহার করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে স্থানীয়ভাবে অর্থ উত্তোলন করে বিল পরিশোধ করা হবে। সেই সাথে বাকী তিনটি হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধেরও উদ্দো্যোগ নেয়া হয়েছে।