বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ভারতের ওপর খুশি নয় বিএনপি সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের পর গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এ সরকারের মেয়াদ ১০০ দিন পেরিয়ে গেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেমন সম্পর্ক ছিল, সেই সম্পর্ক এখনও সেই আগের অবস্থানেই আছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। মঙ্গলবার (৯ জুন) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিএনপি সরকার ভারতের ওপর খুশি […]

ভারতের ওপর খুশি নয় বিএনপি সরকার

ভারতের ওপর খুশি নয় বিএনপি সরকার

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১০:২৪

অন্তর্বর্তী সরকারের পর গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এ সরকারের মেয়াদ ১০০ দিন পেরিয়ে গেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেমন সম্পর্ক ছিল, সেই সম্পর্ক এখনও সেই আগের অবস্থানেই আছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিএনপি সরকার ভারতের ওপর খুশি নয়। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল তা এখনো রয়ে গেছে।

তারা বলেছে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ভারত দুইবার তার দারস্থ হয়েছিল। প্রথমবার এসেছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

আর দ্বিতীয়বার তার দারস্থ হন পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি ভারত সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে তারেক রহমানের কাছে গিয়েছিলেন। অপরদিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের স্পিকার ওম বিরলা তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

কিন্তু একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব বিষয় বিএনপির কাছে পর্যাপ্ত মনে হয়নি। বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশ মনে করে, নতুন সরকারের প্রতি নিজেদের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মোদি সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। যারমধ্যে আছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া।

বিএনপির প্রভাবশালী অংশটির মতে সদিচ্ছার অংশ হিসেবে ভারতের উচিত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট পুনরায় চালু করা, ব্যবসা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের ভিসা পূর্ণমাত্রায় চালু করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে ভারত তাদের বাজারে যেসব বিধিনিষেধ দিয়ে রেখেছে সেগুলো তুলে নেওয়া।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত এর কিছুই করেনি এবং এমন সদিচ্ছা দেখায়নি যারমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তুষ্ট হয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করবেন।

দ্য হিন্দু আরও বলেছে, বিএনপির দিক থেকে তাদের সিনিয়র নেতারা চেয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি সমর্থন তৈরি করা, যেখানে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। যেখানে এক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর অবস্থান ছিল। ওই সরকারের দাবি ছিল সম্পর্ক ভালো করতে চাইলে হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা এমন উদ্যোগ নিলেও ভারত এটির ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়নি বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এক্ষেত্রে তারা উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার গঠনের পর ‘অবৈধ অভিবাসী’ শব্দের ব্যাপক ব্যবহারটিকে। ভারতের এ দুটি রাজ্যেই কথিত বাংলাদেশিদের পুশ-ইন করার কথা ব্যাপকভাবে বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশি কূটনীতিকরা বলেছেন, ঢাকার এই ‘অবৈধ অভিবাসীর’ মতো বিষয় নিয়ে খুব বেশি কথা বলার আগ্রহ নেই। ঢাকা এর বদলে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং ভিসা ইস্যুর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর

এসবের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ৭ ও ৮ এপ্রিল ভারত সফরে যান। ওই সময় তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন। তার সফরের লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক পরীক্ষা করা।

দ্য হিন্দু বলেছে— কিন্তু তখন আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রচারের সময় বাংলাদেশ নিয়ে উস্কানিকমূলক মন্তব্য এবং স্বৈরাচার হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার দেখায়, বিএনপি ভূমিধস জয় জয় অর্জন করেও ভারতকে প্রভাবিত করতে পারেনি।

তবে ঢাকাস্থ বাংলাদেশের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক দ্য হিন্দুকে বলেছেন, ভারতের রাজ্য সরকার নির্বাচনের সময় যেসব উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে সেগুলোর প্রভাব ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে পড়বে না বলে ওই সময় বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

কিন্তু ভারত সরকার কথা রাখেনি। কথিত অবৈধ অভিবাসী নিয়ে তারা যা করছে সেটিকে ‘বেঈমানি’ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ— জানিয়েছেন এ কূটনীতিক।

আর ভারতের কাছ থেকে প্রত্যাশিত বিষয়গুলো না পাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের বদলে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।