বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

উত্তরবঙ্গে কৃষকের হাহাকার, আগাম বৃষ্টি আর বাজার মন্দায় ফিকে হচ্ছে ঈদের আনন্দ

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি  উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও কৃষিপ্রধান জেলা লালমনিরহাটে কৃষকের ঘরে এখন উৎসবের পরিবর্তে হাহাকার বিরাজ করছে। একদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার উত্তাপ, অন্যদিকে আগাম বৃষ্টির প্রভাবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি—সব মিলিয়ে লালমনিরহাটের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন ঈদুল আযহার আগে কৃষকের হাতে নগদ অর্থের জোগান না থাকায় থমকে গেছে জনজীবন। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ মে ২০২৬, ০১:৩৭

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও কৃষিপ্রধান জেলা লালমনিরহাটে কৃষকের ঘরে এখন উৎসবের পরিবর্তে হাহাকার বিরাজ করছে। একদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার উত্তাপ, অন্যদিকে আগাম বৃষ্টির প্রভাবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি—সব মিলিয়ে লালমনিরহাটের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন ঈদুল আযহার আগে কৃষকের হাতে নগদ অর্থের জোগান না থাকায় থমকে গেছে জনজীবন।

তলিয়ে গেছে স্বপ্ন মে মাসের মাঝমাঝি সময়ে হঠাৎ শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের নিচু এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ও ভুট্টা তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে জেলায় এ বছর প্রায় ৪৮,৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। যার একটি বড় অংশ এখনও মাঠে। বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে শ্রমিকের অভাব এবং কাটা ধান শুকানোর জায়গার অভাবে অনেক ধান মাঠেই পচতে শুরু করেছে।

প্রায় ৩২,৯১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া ভুট্টার ৭৫-৮০ শতাংশ কাটা হলেও বাকি অংশ বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত। রোদ না থাকায় ভুট্টা শুকাতে না পেরে মান নষ্ট হচ্ছে, যা সরাসরি বাজারদরে প্রভাব ফেলছে।

বাজার মন্দা ও সিন্ডিকেটের কারসাজি

তামাক চাষিদের অবস্থা আরও করুণ। কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি নানা অজুহাতে তামাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। প্রতি মণ তামাক গত বছর ৬,৫০০-৫,০০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা ২,৮০০-৩,২০০ টাকায় নেমে এসেছে। উৎপাদন খরচই যেখানে মণে ২,৫০০ টাকার উপরে, সেখানে এই দর কৃষকের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

এক মাস আগে ভুট্টার মণ ১,১৬০-১,২০০ টাকা থাকলেও বর্তমান আর্দ্রতার দোহাই দিয়ে ফড়িয়ারা তা ১,০০০-১,০২০ টাকায় নামিয়ে এনেছে। প্রতি একরে চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

গো খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া, বিক্রিতে হাহাকার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লালমনিরহাটের ক্ষুদ্র খামারিরা ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বৈশ্বিক অস্থিরতায় ভুট্টার ভূষি, খৈল ও ফিডের দাম গত এক বছরে প্রায় ৩০-৪০% বেড়েছে। সরকারি হিসেবে এবার দেশে চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই বাড়তি জোগান এবং মানুষের হ্রাসকৃত ক্রয়ক্ষমতার কারণে বাজারে পশুর ন্যায্যমূল্য মিলছে না। কৃষকরা বলছেন, “গরুকে খাওয়াইতে গিয়া ঘটিবাটি বেচার দশা, কিন্তু বাজারে দাম অর্ধেক।”

স্থানীয় কৃষি জৈনিক কর্মকর্তাদের মতে, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপরে তো কারো হাত নেই, তবে সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে। আর এবার কৃষি এবং কৃষকের উপরে সব দিক দিয়েই ব্যাড লাক।”

“ক্ষেতের ভুট্টা পচতাছে, তামাক নিয়া কোম্পানি টালবাহানা করতাছে। গোয়াল ভরা গরু আছে কিন্তু বেচার দাম নাই। এবার ঈদ কেমনে করমু হেই চিন্তা জুইড়া বসছে।” — কালীগঞ্জের কৃষক তপু সিংহ

লালমনিরহাটের কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, “তামাক নিয়া কোম্পানি খেলতাছে, ভুট্টা খাইলো বৃষ্টিতে, আর গরু বেইচ্যা ঈদের খরচ তো দূরের কথা, দাদন শোধ করাই দায়।”

সার্বিক পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতি এখন গভীর সংকটে। সরকারিভাবে কৃষিপণ্য ক্রয়ের বিশেষ উদ্যোগ এবং তামাক চাষিদের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এক বুক দুশ্চিন্তা নিয়ে লালমনিরহাটের কৃষকরা এখন মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন—কখন রোদ উঠবে, আর কখন তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।