রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কৃষকের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী

রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, আদর্শ সদর আয়োজিত […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২২:৪৭

রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, আদর্শ সদর আয়োজিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে “কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প” এবং Bangladesh Sustainable Recovery, Emergency Preparedness and Response (B-STRONG) প্রকল্পের আওতায় কৃষক গ্রুপের মাঝে ধান কাটার যন্ত্র (রিপার), ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি (LLP), ক্যানভাস পাইপ ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সম্প্রসারণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে হবে। কৃষক সমৃদ্ধ হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ, কৃষক নিবন্ধন ও কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মা বোনদের সামাজিক ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। 

তিনি আরো বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার দেশের কৃষি উন্নয়নে খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার বাস্তবসম্মত খাল পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যাতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ধান কাটা, মাড়াই ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছে। ইউনিয়নভিত্তিক কৃষক সমিতি ও সংগঠনের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এর সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কৃষকের সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শসেবা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত, B-STRONG প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মোঃ নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে মন্ত্রী আজ সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ। এসময় মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকুক। প্রতিটি ইঞ্চি জমি ও জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় এনে দেশের খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে প্রতিটি সম্পদকে কাজে লাগানো হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, কৃষিজমি, জলাশয় বা অন্য কোনো উৎপাদনক্ষম সম্পদ হোক- সবকিছুকেই উৎপাদনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের পুষ্টিচাহিদা পূরণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাপক পরিসরে মাছের পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। 

এ সময় কলেজের জলাশয়ে মোট ১৩২ কেজি ও আনুমানিক ১,৬০২টি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে কাতল ৪২ কেজি, রুই ৪৫ কেজি এবং মৃগেল ৪৫ কেজি মাছের পোনা ছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: জিয়া হায়দার চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাসার ভূঁঞা, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।