শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কর ব্যবস্থা চাই, গরিবের ওপর বোঝা নয়

আসন্ন বাজেটে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর করের বাড়তি বোঝা না চাপিয়ে একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব, এবং অনুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে যেসব কর ছাড়ের সুবিধা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় না, তা তিনি নিরুৎসাহিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস শুল্ক বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে […]

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কর ব্যবস্থা চাই, গরিবের ওপর বোঝা নয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কর ব্যবস্থা চাই, গরিবের ওপর বোঝা নয়

নিউজ ডেস্ক

১৫ মে ২০২৬, ১১:৩৫

আসন্ন বাজেটে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর করের বাড়তি বোঝা না চাপিয়ে একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব, এবং অনুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে যেসব কর ছাড়ের সুবিধা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় না, তা তিনি নিরুৎসাহিত করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস শুল্ক বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কর ছাড় দেওয়া হলেও— বেশকিছু খাতে করের চাপ আসছে। বিশেষত ধনীদের ওপর করের চাপ বাড়তে পারে।


বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, এনবিআর-এর বেশ কিছু প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা সম্পদ কর চালুর উদ্যোগ অন্যতম, যার মাধ্যমে অতি ধনীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুমোদিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপর ভ্যাট বা মূসক আরোপ করা হতে পারে।

এছাড়া এখন থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) প্রয়োজন হবে। এই বিআইএন ইস্যু করার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে এবং ভ্যাট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই তা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে। নতুন কর আসতে পারে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। বৈঠকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ব্যক্তি করদতাদের কর কাঠামো একই হারে বা স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়, যার প্রতিফলন আসন্ন বাজেটে দেখা যেতে পারে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা যেন নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্ব বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপায় হলো এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি রোধ করা। এছাড়া কর ব্যবস্থার ছিদ্রগুলো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

সভায় অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বাজেট সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ওই বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। সূত্র জানায়, দীর্ঘ এ সভায় আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয় অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন বিষয়ে নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনা দেন।

বিভিন্ন খাতে করের চাপ বাড়িয়ে এবং কর ও ভ্যাটের আওতায় বাড়িয়ে, আগামী অর্থবছরে এনবিআর -এর মাধ্যমে সরকার ৬.০৪ লাখ কোটি টাকা আদায় করতে চায় সরকার। আর নন-এনবিআর, এবং নন-ট্যাক্স মিলিয়ে রাজস্ব উৎসগুলো থেকে আরো ৯১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য সরকারের।

সম্পদ কর ও আবগারি শুল্ক

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সম্পদ কর বা ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ চালুর প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। বর্তমানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শন করা সম্পদ চার কোটি টাকা অতিক্রম করলে—প্রদেয় করের উপর সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সারচার্জ আরোপ করার বিধান রয়েছে। তবে নতুন এই সম্পদ কর আরোপ হলে সম্পদের নিট মূল্যের ওপর সরাসরি কর আরোপ হবে।

এছাড়া ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্কের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন তারেক রহমান। বর্তমানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ টাকার বেশি ব্যাংক আমানত থাকলে— তার ওপর আবগারি শুল্ক কাটা হয়। এই সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ব্যক্তি করদাতাদের বর্তমান কর কাঠামো বজায় রাখা এবং সেখানেও কিছুটা ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩.৭৫ লাখ টাকা, যা ২০২৭-২৮ অর্থবছরে শেষ হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হতে পারে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তা অপরিবর্তিত রাখা হবে।

যদিও এনবিআরের চাল ও ডালের মতো বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্থানীয় ও আমদানি পর্যায়ে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তাতে প্রধানমন্ত্রী কোনো সায় দেননি। ফলে এসব পণ্যের কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখলে করছাড়

সভায় উপস্থিত এনবিআরের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেসব ব্যবসা ও বিনিয়োগ অর্থনীতিতে অবদান রাখবে, বিশেষত তার কর্মসংস্থান, কমিটমেন্ট এবং আউটপুট বিবেচনায়—করছাড় দেওয়া যেতে পারে।”

রাজস্ব বোর্ডের করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকে বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, কোন ধরণের করছাড় দেওয়ার পলিসি ডিজাইন এমনভাবে না করা যাতে এর সুবিধা কেবল একক কোন প্রতিষ্ঠান পায়। বরং এমনভাবে পলিসি ডিজাইন করতে হবে, যাতে সেক্টরের সবাই ওই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, অদক্ষ শ্রম-নির্ভর শিল্প থেকে করছাড় সরিয়ে দক্ষ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্পের দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পের প্রসারে যা যা সুবিধা প্রয়োজন, তা দেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া যেসব ভোক্তা-কেন্দ্রিক কর অব্যাহতি সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পকেটে যায়, এমন ছাড়কে নিরুৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

করছাড়ের চাপ

কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক দিকনির্দেশনা ছিল বিদ্যমান কর অব্যাহতি বা ছাড়গুলো ঢালাওভাবে বাতিল না করে সেগুলোকে যৌক্তিক করা, যাতে এসব সুবিধা অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে দৃশ্যমান অবদানের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ঢালাওভাবে করছাড় প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন খাতে করের হার বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ক্রমাগত চাপের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ । গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইএমএফ বাংলাদেশকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ৯.২ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানায়, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬.৭ শতাংশ। তবে সরকার এই শর্তগুলোতে সায় দেয়নি।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।