বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট গতকাল ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়—আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা কয়লার ঘাটতি ও সীমিত গ্যাস সরবরাহের সংকট জর্জরিত দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ […]

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

নিউজ ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬

ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট গতকাল ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়—আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা কয়লার ঘাটতি ও সীমিত গ্যাস সরবরাহের সংকট জর্জরিত দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, গতকাল রাত ১টায় কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৬৪ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড বর্তমানে চরম চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫,০০০ মেগাওয়াটের ‘পিক ডিমান্ড’ বা সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ১টায় ১৫,২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩,১৯৮ মেগাওয়াট।

গ্রীষ্মের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট ঘাটতি—যা গত সোমবারের পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি—সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিদ্যুৎ খাতের ক্রমাগত লড়াইকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পোৎপাদন ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে গ্রামীণ জনপদগুলো সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের শিকার হচ্ছে।

অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের মাত্রায় বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। গাজীপুরে লোডশেডিংয়ের হার ২৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও, সাভারে তা ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সিলেটে প্রায় ৪০ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, আর গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্ব দাঁড়াচ্ছে সাত থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের ‘এয়ার প্রি-হিটার’ সংশ্লিষ্ট বিয়ারিংয়ের সমস্যার কারণে ইউনিট-১ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এয়ার প্রি-হিটার বিয়ারিংয়ে কম্পন (ভাইব্রেশন) বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আদানি আমাদের অবহিত করেছে যে ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।”

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য বলছে, পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই আদানির সরবরাহ ১,১০৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিল এবং রাত ২টার দিকে তা আরও কমে ৭৬৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়, কারণ বর্তমানে সেখানে মাত্র একটি ইউনিট সচল রয়েছে।

গতকাল দিনের বেলা সর্বোচ্চ চাহিদা ১৫,৪৫০ মেগাওয়াট প্রাক্কলন করা হলেও— উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩,১১২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৩৩৮ মেগাওয়াটেরও বেশি। বিপিডিবি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, আদানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

চাপে এপ্রিল-মে মাসের উৎপাদন পরিকল্পনা

গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে, বিপিডিবি এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে ১৭,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী—৫,৬০০ মেগাওয়াট গ্যাস থেকে, ৬,০০০ মেগাওয়াট কয়লা থেকে, ১,৪৩৫ মেগাওয়াট আদানি পাওয়ার থেকে, ৩,৫০০ মেগাওয়াট তরল জ্বালানি এবং প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি আমদানির মাধ্যমে আসার কথা ছিল।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সক্ষমতার অনেক নিচে কাজ করছে। বিপিডিবির তথ্যানুসারে, ২১ এপ্রিল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক প্রায় ৮৯১.৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি), যা দিয়ে ৪,৬০০ থেকে ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

যদিও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ১১,০০০ মেগাওয়াট, বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রকৃত উৎপাদন কদাচিৎ ৫,০০০-৫,১০০ মেগাওয়াট ছাড়ানো সম্ভব হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত ১০০-১৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলে উৎপাদন ৬,০০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব, তবে বর্তমান সংকটের মধ্যে গ্যাসের এই সরবরাহ পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত।

কয়লা সংকটে জর্জরিত কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো

কয়লা সংকটের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও চাপের মুখে রয়েছে। আগের পরিকল্পনায় কয়লা থেকে ৬,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও—প্রকৃত উৎপাদন ৪,৫০০ থেকে ৪,৬০০ মেগাওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গতকাল বিকেল ৪টায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন ছিল ৪,৬০৫ মেগাওয়াট।

চলতি এপ্রিল মাসের ভ্যাপসা গরমে ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদন কমে যাওয়া— লোডশেডিং সামাল দেওয়ার চেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কয়লা সংকটে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ এবং অন্যটি মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করায়—এটি এখন সক্ষমতার অনেক নিচে চলছে।

বিপিডিবির সূত্রমতে, গ্রীষ্মের চাহিদা মেটাতে এসএস পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হলেও কয়লা সংকটে এটি এখন সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কর্মকর্তারা জানান, আগামী রোববারের মধ্যে কয়লার নতুন চালান আসার কথা রয়েছে, ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে এর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এ ছাড়া ১,৩২০ মেগাওয়াট পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট সক্ষমতার নিচে চলছে, যা উৎপাদন করছে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে, ১,২০০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯০০-৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৩,৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপিডিবি বর্তমানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্যমতে, গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ফার্নেস অয়েল বা এইচএফও-ভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ২,৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।

অন্যান্য উৎস ও আমদানি

গতকালকের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মিশ্রণে ছিল গ্যাস থেকে ৫,০৯৬ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ৪,৫৫৯ মেগাওয়াট এবং ফার্নেস অয়েল থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট। বাকিটা জলবিদ্যুৎ, সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে যোগান দেওয়া হয়েছে।

আদানির বিঘ্নিত সরবরাহ (৭৫১ মেগাওয়াট) ছাড়া গতকাল বিদ্যুৎ আমদানির তালিকায় ছিল এইচভিডিসি লিংকের মাধ্যমে ৯২২ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৮৮ মেগাওয়াট।

গ্যাস ও কয়লা সংকট এবং ফার্নেস অয়েল-ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে সক্ষমতার তুলনায় কম ব্যবহারের ফলে, বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও প্রকট হওয়ার বিষয়ে বিপিডিবি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে চাহিদা আরও বাড়বে; তাই সারা দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং আদানির ইউনিটটি দ্রুত চালু না হলে— দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।