ভোটার হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) উপস্থিত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে পৌঁছান। সেখানে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন তিনি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ভবনের ইটিআই–১০৪ নম্বর কক্ষে তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ সময় তার ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ গ্রহণ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, তারেক রহমানের অনলাইন আবেদন আগেই যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল। শনিবার সরাসরি উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে ভোটার হওয়ার চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হয়। ইসি সূত্র আরও জানায়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ স্ক্যান সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত হবে।
ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করে ইসি ভবন থেকে বের হয়ে তারেক রহমানের গাড়িবহর রাজধানীর গুলশানের বাসভবনের দিকে রওনা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশন ভবনের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন তারেক রহমান। এর আগে তিনি অনলাইনে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং ঢাকা-১৭ আসনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই ভোটার হতে হয় এবং সেই বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবেই তারেক রহমানের এই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করাকে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।