বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নানামুখী চাপে যখন নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আলী আহসান জুনায়েদ লেখেন,
“আমরা মৃত্যুভয়ে কাতর নই, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না।” তিনি সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে লেখেন,
“আপনি শক্ত হাতে হাল ধরুন। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। ছাত্র-জনতা আপনার পাশে থাকবে।”
তিনি আরও লেখেন,
“ঐক্য বিনষ্টকারীদের কারণে সৃষ্ট দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের সাথে বসুন, কথা শুনুন, জানান কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে। দেখবেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা সারাদেশে আবারও নামবে দেশ বাঁচাতে।”
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী পদে বসা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রকাশ্যে সরকারের কিছু উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছে এবং বিভিন্ন আন্দোলনে তা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও আসছে শঙ্কা এবং হতাশার সুর।
আলী আহসান জুনায়েদের এই বার্তা রাজনৈতিক তরুণদের একটি বৃহৎ অংশের মনের কথা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে যারা “জুলাই অভ্যুত্থান”–এর মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের কাছে এই বক্তব্য নতুন করে মাঠে নামার ডাক।
জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিট পুনর্জাগরণের এই আহ্বান আগামী দিনগুলিতে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে স্পষ্টত, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধা এবং রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব যদি কাটিয়ে উঠতে না পারে অন্তর্বর্তী সরকার, তাহলে মাঠে থাকা শক্তিগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।