নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেনস্তা ও আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
হুইলচেয়ারে থাকা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে তাঁর চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা ও আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক মর্যাদার সব সীমা লঙ্ঘন করে। আওয়ামী লীগের এ ধরনের আচরণ তাদের দীর্ঘদিনের অসহিষ্ণু ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধের মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে জুলাইয়ের নেতৃত্ব ও শক্তিকে হেনস্তা এবংঅপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেনেভা, লন্ডন ও নিউইয়র্কে জুলাইয়ের নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনাগুলো এই ধারাবাহিকতারই ইঙ্গিত বহন করে। জুলাই গণহত্যা ও দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকে তারা প্রবাসে বসেও বিভ্রান্তি, অপপ্রচার, উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে।
কিন্তু এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যাবে না। গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাই, নিউইয়র্কের ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। ঘটনার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা চাইতে হবে।
একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ জুলাই গণহত্যার মামলায় অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, আইনি সহযোগিতা ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।
সরকার কেবল বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে পারে না; এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কূটনৈতিক তৎপরতা ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জবাবদিহির আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠা করেছে, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই গণহত্যার দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।