মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

এই দেশ আমার প্রথম ঠিকানা, এই দেশে আমার শেষ ঠিকানা : তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন যখন আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথচলা শুরু হয়েছে, তখন একটি মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেন কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও হরণ না হয়—সে বিষয়ে সবাইকে […]

এই দেশ আমার প্রথম ঠিকানা, এই দেশে আমার শেষ ঠিকানা : তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০০

বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন যখন আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথচলা শুরু হয়েছে, তখন একটি মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেন কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও হরণ না হয়—সে বিষয়ে সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এই সমাবেশে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ফেনীসহ আশপাশের জেলা থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বাস জনসভাস্থলে পৌঁছায়। মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর তিনি মঞ্চে ওঠেন। প্রায় দুই দশক পর ফেনীতে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিয়ে টানা প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ শুরু করবে। আমাদের একটাই লক্ষ্য—দেশ গড়া। আমরা যদি এই দেশ গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দেশই আমার, আপনার, আমাদের সবার শেষ ঠিকানা। এই দেশেই আমাদের জন্ম, এই দেশেই আমাদের মৃত্যু। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। তাই দেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।”

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুক, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন (ভিপি জয়নাল), নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ফেনী-১ আসনের প্রার্থী মুন্সী রফিকুল আলম (মজনু)সহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর বড় সন্তান তারেক রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “ভোটের দিন যারা তাহাজ্জুদ পড়েন না, তারাও তাহাজ্জুদের সময় ঘুম থেকে উঠবেন। যারা পড়েন, তারা নামাজ শেষ করে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে সকাল সাতটার পর ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন। ভোট দিয়ে হিসাব বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবেন না। আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দেশের মানুষের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর।”

ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের ভোটারদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “এই তিন জেলায় ধানের শীষ বিজয়ী হলে সেটি হবে খালেদা জিয়ার বিজয়।” ফেনীবাসীর দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে। গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসক পাঠিয়ে মা-বোনদের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ফেনীর সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ফেনী আমার নানার বাড়ি। এখানে চট্টগ্রামের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। ফেনীতে ইপিজেড স্থাপন, তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের ভাগ্য বদলে যাবে।”

বক্তব্য শেষে তিনি ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এঁরা নির্বাচিত হলে আপনাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। এলাকার সমস্যা নিয়ে সরাসরি তাঁদের কাছে যাবেন এবং সমাধানের দাবি জানাবেন।”

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে তারেক রহমান কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। এর আগে দুপুরে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশ মঞ্চের পাশে গুমের শিকার পরিবার, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। পরদিন ঢাকায় সমাবেশ শেষে শনিবার চট্টগ্রাম হয়ে ফেনীতে জনসভায় অংশ নেন তিনি। এরপর কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক জনসভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তার।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৭