শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

ইতিহাস গড়ে স্বদেশে ফিরলেন তারেক রহমান

ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় রচিত হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বৃহস্পতিবার স্বদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মাটিতে পা রেখেই খোলা পায়ে মাতৃভূমির স্নিগ্ধ পরশ অনুভব করেন তিনি। আবেগাপ্লুত হয়ে একমুঠো মাটিও হাতে তুলে নেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনতার মহাসমুদ্রে উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর […]

ইতিহাস গড়ে স্বদেশে ফিরলেন তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫১

ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় রচিত হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বৃহস্পতিবার স্বদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মাটিতে পা রেখেই খোলা পায়ে মাতৃভূমির স্নিগ্ধ পরশ অনুভব করেন তিনি।

আবেগাপ্লুত হয়ে একমুঠো মাটিও হাতে তুলে নেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনতার মহাসমুদ্রে উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর এই উত্তরসূরি।

ঢাকায় অবতরণের পরপরই তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রওনা হন পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ের গণসংবর্ধনাস্থলের উদ্দেশে।

সেখানে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন নিজের স্বপ্নের বাংলাদেশের রূপরেখা। দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন— “I have a plan.” সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সংবর্ধনা শেষে চিকিৎসাধীন মায়ের কাছে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান।

জুলাই বিপ্লবের মুখে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র ভারতে পলায়নের পর থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় থেকেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন।

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকায় অবতরণ করেন। এর আগে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে জুতা-মোজা খুলে খালি পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তারেক রহমান। এক আবেগঘন মুহূর্তে তিনি দেশের মাটি হাতে তুলে নেন। এরপর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সবুজ বাসে চড়ে সংবর্ধনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। পথে পথে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।

সাধারণ সময়ে যেখানে ১৫–২৫ মিনিট লাগে, সেখানে লাখো মানুষের ভিড় ঠেলে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে তারেক রহমানের গাড়িবহরের সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে হেঁটেই মঞ্চে ওঠেন তিনি। মঞ্চের তিনদিক ঘুরে জনসমুদ্রের অভিবাদন গ্রহণ করেন, মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বারবার জনগণের ত্যাগের মাধ্যমেই রক্ষা পেয়েছে—১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ইতিহাস তার সাক্ষী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এমন এক সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে। পাহাড়-সমতল, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ১৫ বছরে গুম-খুন ও নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছে। শহীদ শরীফ ওসমান হাদিসহ সব শহীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই হবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই, তাই ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামনে এগোতে হবে। গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর বিখ্যাত উক্তি ‘I have a dream’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আজ তিনি বাংলাদেশের মানুষের সামনে বলছেন— “I have a plan for the people of my country.” এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা চান তিনি।

বক্তব্যের শেষভাগে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনবার উচ্চারণ করেন— “আমরা দেশে শান্তি চাই।” এরপর অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

সংবর্ধনাস্থল ছাড়াও বিমানবন্দর ও পুরো ৩০০ ফিট এলাকা সকাল থেকেই জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও ভোটাধিকারহীনতার অবসান ঘটবে—এই প্রত্যাশা নিয়েই তারা উপস্থিত হয়েছেন।

২০০৮ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সময় জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠানো এই নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, কারাবরণ ও প্রবাসজীবন পেরিয়ে আজ এক পরিপক্ব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে রূপ নিয়েছেন। দেড় যুগের নির্বাসন শেষে বীরের বেশে তার এই প্রত্যাবর্তন শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৭০

রাজনীতি

১৫ বছর পর খালাস পেলেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস-দিনারসহ ৩৮ জন

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক। মানবপাচার […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ মে ২০২৬, ১৪:৫০

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক।

মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ খালাসের রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্ত অন্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ। রায় ঘোষণার সময় আসামি পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত এবং অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেসের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও অন্য একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে বাসের ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান চিত্রনায়িকা শাবনুরের পিতা হিসেবে পরিচয়দানকারী ৭০ বছরের বৃদ্ধ কাজী নাছির।

ঘটনার পর পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করলেও ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে ছবি ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন। তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত জানিয়েছিলেন, নিহতের জুতা, ঘড়ি ও বেল্ট দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওই ঘটনার রাতে এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং পরিবহণ ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান দ্রুতবিচার আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বর্তমানে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও দিনার ছাড়াও কোহিনুর, আশিক, মকছুদ আহমদ, রাসেল, তোরন, সামছুল ইসলাম টিটু ও এমএ মান্নানসহ মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত ইলিয়াস আলী ও দিনারসহ ৩৮ জন আসামিকে এই দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল যা আজ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিখোঁজ ইলিয়াস আলী ও দিনারের সন্ধান না মিললেও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নাম এ মামলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ল। বর্তমানে রায় পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭২৯১
বিষয়ঃ

রাজনীতি

স্বামী সংসদে যেতে না পারলেও যাচ্ছেন স্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী […]

নিউজ ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট।

তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মুন্নী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি এবং দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও কর্মরত। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে দলের জন্য তার অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মতিউর রহমানও জানিয়েছেন, জামায়াত যোগ্যতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেই প্রার্থী নির্বাচন করে। সাবিকুন্নাহার মুন্নী আশা প্রকাশ করেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দেশের অবহেলিত নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করবেন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৭০

রাজনীতি

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ […]

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

নিউজ ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক মহলে এই মন্ত্রিসভা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও চূড়ান্ত তালিকাটি কেবল হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার মন্ত্রিসভায় অনেক প্রবীণ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যকে দেখা না-ও যেতে পারে। তারেক রহমান মূলত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশ গড়ার পরিকল্পনা করছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা শরিক দলগুলোর একাধিক নেতারও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি এবং সমসংখ্যক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুরুতে মন্ত্রিসভার আকার ৪০ জনের কাছাকাছি হতে পারে।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাসের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্বের চেয়ে সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞদের দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া তরুণ ও মেধাবী মুখ হিসেবে সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মাহদী আমিনের মতো নেতাদের টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। শরিকদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।

নবনির্বাচিত এই সরকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। তারেক রহমান ইতিপূর্বে দলীয় ফোরামে জানিয়েছেন যে, মন্ত্রীরা সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। এ লক্ষ্যে সংসদ উপনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০০১ সালের পর এবারই প্রথম বিএনপি একক শক্তিতে সরকার গঠন করলেও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ বাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়েই তিন দশক পর বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এক নতুন সরকার।

সূত্র: মানবজমিন

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৭০