ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের দায়ের করা মামলাকে “বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ” বলে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবাদ জানায়।
ছাত্রদলের অভিযোগ—সাদিক কায়েম কিছু ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডির বিরুদ্ধে বানোয়াট, ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত ও হয়রানিমূলক মামলা করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছে এবং অনলাইনে সমালোচনা ও ব্যঙ্গশৈলী চর্চাকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাদিক কায়েম দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারণে “আওয়ামী-বাকশালি কৌশলে” বাকস্বাধীনতা হরণের পদ্ধতি রপ্ত করেছেন। এমনকি তার মামলার আওতা থেকে মিম পেইজ, ট্রল পেইজও রেহাই পায়নি, যা ছাত্রশিবিরের অসহিষ্ণু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করে ছাত্রদল।
ছাত্রদল আরও দাবি করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার বিতর্কিত সাইবার আইন বাতিল করে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে সাইবার আইনে মানহানির মামলা করার কোনো আইনি সুযোগ নেই, তবুও সাদিক কায়েম এই আইনকে অপব্যবহার করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি যেসব অভিযোগ এনেছেন, তা সাইবার সুরক্ষা আইনসহ দেশের কোনো আইনেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত নয়। এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
ছাত্রদল আরও উল্লেখ করে, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৮ ধারা অনুযায়ী কেউ ইচ্ছাকৃত মিথ্যা অভিযোগ করলে, অভিযোগকারী নিজেই সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তির আওতায় পড়তে পারেন। তারা দাবি করে, এর আগেও সাদিক কায়েম এক বিএনপি নেতাকে “মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগে” অভিযুক্ত করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেছিলেন। তার অনুসারী বটফোর্সও অনলাইনে নারীদের হেনস্তা ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর “সাইবার সন্ত্রাস” চালিয়ে যাচ্ছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাদিক কায়েমকে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছেন।