গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ খুঁজছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক যুব ঐক্য আয়োজিত ‘আগামী নির্বাচন গুণমানসম্পন্ন ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, “গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ফ্যাসিবাদ এখনো বন্ধ হয়নি। আমরা যে উপদেষ্টা সংস্কারের কথা বলেছিলাম, তার পরিবর্তে কয়েকজনকে এনজিও উপদেষ্টা বানানো হলো। তারা শপথ নিলেও দেশের জন্য তাদের কোনো বাস্তব অবদান নেই।” তিনি আরও বলেন, “যে গাদ্দার উপদেষ্টাদের কথা সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তাদের নাম প্রকাশ করা দরকার। যদি তাদের ষড়যন্ত্রে গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়, তাহলে এর দায় আপনাকেই নিতে হবে।”
বর্তমান সরকারের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, “এই সরকার কোনো সংস্কার আনতে পারেনি। শুধু শেখ হাসিনা পালিয়েছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো রয়ে গেছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের বাস্তবতায় নিম্নকক্ষে পিআর ব্যবস্থা কার্যকর হবে না। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে পারে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভাজন সৃষ্টি হবে।”
তিনি আহ্বান জানান, “আওয়ামী লীগ ও ভারতের আধিপত্যের প্রশ্নে, ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে।”
সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে দেশে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিয়েও টানাটানি দেখা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগকে অনেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। জাতির স্বার্থে সব দলের সমঝোতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।