গুলশানের চাঁদাবাজি মামলায় অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা জড়িত কিনা—এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা ও জনসম্মুখে তথ্য প্রকাশের দাবি তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“গুলশানকাণ্ডে উপদেষ্টাদের কেউ জড়িত কিনা, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। যদি তদন্ত না হয়, তাহলে উপদেষ্টাদের বিষয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে। তাই এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত হওয়া জরুরি।”
তিনি আরও সতর্ক করে দেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করবে। তার মতে, যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা বা বয়কটের পথে যাবে, তারা জাতীয় রাজনীতি থেকে চূড়ান্তভাবে ‘মাইনাস’ হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুর একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও বুধবার রাতে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে অপু একজন উপদেষ্টার সঙ্গে ভোররাতে গুলশানের একটি হোটেলের সামনে সাক্ষাৎ ও আলাপের কথা উল্লেখ করেন।
তবে বৃহস্পতিবার জাতীয় জাদুঘরে এক সংবাদ সম্মেলনে অপুর স্ত্রী কাজী আনিশা দাবি করেন, এই স্বীকারোক্তি আদায় হয়েছে জোরপূর্বক। তার অভিযোগ, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন অপুকে নিজের বাসা গোপীবাগে নিয়ে গিয়ে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযোগ শুধু গুলশান ঘটনার ধোঁয়াশা আরও বাড়াচ্ছে না, বরং বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরে অবিশ্বাস ও বিভক্তি আরও গভীর করছে।