মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

নাহিদের নেতৃত্বে ছাত্ররা দাঁড়াবে আরেক ইতিহাসের সামনে

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের অন্তর্বর্তী সরকারেও ছাত্রদের মূল প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। তার ধীরস্থির ও দৃঢ় নেতৃত্ব প্রশংসিতও হয়েছে। এবার সেই নাহিদ আরেকটি ইতিহাসের সামনে। আজ শুক্রবার জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলেরও প্রধান হচ্ছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গঠিত হওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১২:১৩

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের অন্তর্বর্তী সরকারেও ছাত্রদের মূল প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। তার ধীরস্থির ও দৃঢ় নেতৃত্ব প্রশংসিতও হয়েছে। এবার সেই নাহিদ আরেকটি ইতিহাসের সামনে।

আজ শুক্রবার জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলেরও প্রধান হচ্ছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গঠিত হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের মধ্যে নাহিদই হতে যাচ্ছেন সর্বকনিষ্ঠ।

এর আগে তার দলের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে আসার ঘটনাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।

নাহিদকে আহ্বায়ক করে গঠিত হতে যাওয়া নতুন এই দলের নাম জাতীয় নাগরিক পার্টি হতে যাচ্ছে বলে জাতীয় নাগরিক কমিটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তবে এটি ইংরেজিতে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ সংক্ষেপে এনসিপি নামে ঘোষিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দফায় দফায় রাজধানীর বাংলামটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকের পর এই নাম ঠিক করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন এই দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হবে। সেখানে দলের শীর্ষ পদে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, তরুণদের রাজনৈতিক দলটির সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এ ছাড়া নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রধান সমন্বয়কারী, হাসনাত আবদুল্লাহকে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়াও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সদস্য সচিব পদমর্যাদা) হিসেবে সালেহ উদ্দিন সিফাতের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তবে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে আলোচনায় আছেন চার নারী।

তারা হলেন—ডা. তাসনিম জারা, মনিরা শারমিন, নাহিদা সরোয়ার নিভা ও নুসরাত তাবাসসুম। তাদের মধ্য থেকে একজন পাবেন এ দায়িত্ব।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বড় জমায়েতের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত এ রাজনৈতিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। প্রায় চার লাখ মানুষের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা।

তবে দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, অন্তত দুই লাখ মানুষ এতে উপস্থিত থাকবেন। তার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশকেও জানানো হয়েছে, অনুমতি নেওয়া হয়েছে। দলটির স্লোগান ঠিক না হলেও নাগরিক শক্তি, নাগরিক মুক্তি হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ইনকিলাব জিন্দাবাদও আলোচনায় রয়েছে।

জানা যায়, নতুন রাজনৈতিক দলের কার্যনির্বাহী কমিটি ১৫১ সদস্যের হতে পারে। কোর-কমিটি হতে পারে ২৪ জনের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশ থেকে নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক দলটি।

এই দলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন সেক্টরের জনপ্রিয়রা স্থান পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। শীর্ষ দশ পদের তিন থেকে চারটিতে থাকছে নারী। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ থাকবে এই দলে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির ফেসবুক পোস্টে গতকাল বলা হয়, জুলাইয়ের সাহসী নারীদের আমরা হারাতে দেব না। নতুন রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের সামনের কাতারে দেখা যাবে।

এদিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেদের নতুন দল থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাফে সালমান রিফাত। তারা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি।

আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে। তাদের চীন সফর নিয়েও আপত্তি ওঠে নাগরিক কমিটিতে। গত সোমবার এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয় সংগঠনটি।

আলী জুনায়েদের সঙ্গে নাগরিক কমিটির নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে নতুন রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব পদ নিয়ে। তার অনুসারীরা তাকে এ পদে দাবি করলেও আরেকটি অংশ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে চায়।

এ নিয়ে টানাপোড়েন চলে নাগরিক কমিটিতে। পরে নিজেকে সরিয়ে নেন জোনায়েদ।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তার নেতৃত্বের জন্য তিনি মার্কিন সাময়িকী টাইমের ‘হানড্রেড নেক্সট ২০২৪’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

টাইমের ওই তালিকায় নাহিদ ইসলামকে লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার সম্পর্কে মার্কিন সাময়িকীটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সাহায্য করার জন্য ২৬ বছরের বেশি বয়স পার হতে হয়নি নাহিদ ইসলামকে।

বিশ্বজুড়ে উদীয়মান নেতা, যারা ভবিষ্যৎ গঠন করছেন এবং নেতৃত্বের পরবর্তী প্রজন্মের সংজ্ঞা নির্ধারণ করছেন, তাদের হানড্রেড নেক্সট তালিকায় রাখা হয়।

উপদেষ্টার পদ ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত নাহিদ ইসলামের প্রসঙ্গে সম্ভাবনার কথাই বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ধারালো রাজনৈতিক মনমানসিকতার অধিকারী নাহিদ ইসলাম।

তার বয়স মাত্র ২৬ এবং এরই মধ্যে একজন নৃশংস স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে একটি সফল অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দেশের রাজনীতিতে আরও কয়েক দশক ধরে বড় ভূমিকা পালন করবেন। আর আল্লাহ জানেন, একদিন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন।

উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সরকারের বাইরে দেশের যে পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক শক্তি উত্থানের জন্য আমার রাজপথে থাকা প্রয়োজন। ছাত্র-জনতার কাতারে থাকা প্রয়োজন।

আমরা যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করি, সে আকাঙ্ক্ষার জন্য এবং গণঅভ্যুত্থানে যেসব ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করেছে, সেই শক্তিকে সংহত করতে আমি মনে করছি, সরকারের থেকে সরকারের বাইরে রাজপথে আমার ভূমিকা বেশি হবে।

নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, কেবল দীর্ঘ ১৬ বছর নয়, বরং যারা তারও বেশি সময় ধরে নির্যাতিত ছিলেন, তারা আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে থাকবেন। একই সঙ্গে যারা জুলাই

গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছেন, যেসব প্রবাসী অভ্যুত্থানে রেমিট্যান্স বন্ধ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তারাও থাকবেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ থাকবেন।

সবার উপস্থিতিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি নবদিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আমন্ত্রণ পেলেন ইউনূসসহ শীর্ষ রাজনীতিকরা: আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপি, জামায়াতসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ৫১ দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিকদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যমুনায় গিয়ে সরকারপ্রধানের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন এনসিপির নেতারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম ও জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ প্রধান।

নেতারা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে ৩৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নাগরিক কমিটি। তবে পতিত আওয়ামী লীগ বা তাদের শরিক ১৪ দলের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমরা দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টাকেও আমরা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৫১

রাজনীতি

১৫ বছর পর খালাস পেলেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস-দিনারসহ ৩৮ জন

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক। মানবপাচার […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ মে ২০২৬, ১৪:৫০

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক।

মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ খালাসের রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্ত অন্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ। রায় ঘোষণার সময় আসামি পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত এবং অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেসের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও অন্য একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে বাসের ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান চিত্রনায়িকা শাবনুরের পিতা হিসেবে পরিচয়দানকারী ৭০ বছরের বৃদ্ধ কাজী নাছির।

ঘটনার পর পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করলেও ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে ছবি ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন। তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত জানিয়েছিলেন, নিহতের জুতা, ঘড়ি ও বেল্ট দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওই ঘটনার রাতে এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং পরিবহণ ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান দ্রুতবিচার আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বর্তমানে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও দিনার ছাড়াও কোহিনুর, আশিক, মকছুদ আহমদ, রাসেল, তোরন, সামছুল ইসলাম টিটু ও এমএ মান্নানসহ মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত ইলিয়াস আলী ও দিনারসহ ৩৮ জন আসামিকে এই দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল যা আজ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিখোঁজ ইলিয়াস আলী ও দিনারের সন্ধান না মিললেও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নাম এ মামলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ল। বর্তমানে রায় পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৫১
বিষয়ঃ

রাজনীতি

স্বামী সংসদে যেতে না পারলেও যাচ্ছেন স্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী […]

নিউজ ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট।

তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মুন্নী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি এবং দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও কর্মরত। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে দলের জন্য তার অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মতিউর রহমানও জানিয়েছেন, জামায়াত যোগ্যতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেই প্রার্থী নির্বাচন করে। সাবিকুন্নাহার মুন্নী আশা প্রকাশ করেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দেশের অবহেলিত নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করবেন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৪৫৩

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৫১