আজ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক্সাম ছিল। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৩ লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী ঢাকায় এসেছিল এই পরীক্ষা দিতে। কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ বা ধার-দেনা করে ঢাকায় এসেছে—নিজের মেরিট দিয়ে একটা জব পাওয়ার আশায়।
অথচ, গতকাল রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছিলো।
আর আজ? ৩ লাখ ক্যান্ডিডেট যখন ১০০ টা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকলো, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ঘোষণা হলো, “প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় এক্সাম ক্যানসেল।” কী নির্মম রসিকতা!
এই ৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেললেন, এর দায় কে নেবে? সরকার আবারো পরীক্ষার আয়োজন করতে ডাবল টাকা খরচ হবে। এই টাকা জনগণের টাকা৷ এই জবাবদিহিতা কে করবে?
আজ এই ৩ লাখ স্টুডেন্ট চরম ফ্রাস্ট্রেশন নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। কিছুদিন পর আবার ধার-দেনা করে ঢাকায় আসবে এক্সাম দিতে। কীসের আশায়? আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে?
বছরের পর বছর কোনো সার্কুলার নাই, রিক্রুটমেন্ট নাই। আর যখন একটা এক্সাম হয়, সেখানে ভর করে প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেট! আর কত?
বেকারদের পকেটের টাকা আর চোখের জল নিয়ে যে সিন্ডিকেট হোলি খেলছে, তাদের পিঠের চামড়া কিন্তু ভুখা তরুণরা তুলে নিবে।
২০০+ পদের বিপরীতে পরীক্ষা দিচ্ছিলো প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থী৷ কী বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর দেশে এইটা ভাবেন! কর্মসংস্থান সৃষ্টির মিথ্যা ব্লাফিং শেষে সরকার গঠন করে কয়টা সরকারি পদও বিক্রি করে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে!
সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য থামাতে পারতেছে না!
প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি লোক, দলীয় লোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্টতা থাকলে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।
আর, সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে৷ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে৷ অবশ্য, মন্ত্রী নিজেই সিন্ডিকেটের প্রধান হইলে সিন্ডিকেট উৎপাদন হবে, উৎপাটন হবে না।