রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সরকারের সঙ্গে যাতে কোনোভাবে দল হারিয়ে না যায়: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে কোনোভাবেই দলের স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। তার মতে, রাজনৈতিক দল ও সরকারের ভূমিকা আলাদা থাকা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি […]

সরকারের সঙ্গে যাতে কোনোভাবে দল হারিয়ে না যায়: তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৩

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে কোনোভাবেই দলের স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। তার মতে, রাজনৈতিক দল ও সরকারের ভূমিকা আলাদা থাকা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হলো সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং জনগণের কাছে সেসব উদ্যোগ তুলে ধরা। তবে দল যদি সরকারের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়, তাহলে সরকার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি দলেরও অস্তিত্ব সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

দলের সাংগঠনিক অবস্থা, তৃণমূলের কোন্দল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, শুরুতে তারেক রহমান স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন। পরে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বজায় রাখা, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহে আদর্শ বিসর্জন দিলে দল তার ভিত্তি হারাবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দল ও সরকারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের সম্পর্ক হওয়া উচিত রেললাইনের মতো—দুটি পাশাপাশি চলবে, কিন্তু একে অপরকে অতিক্রম করবে না। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং দলও সুসংগঠিত থাকবে।

বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ প্রশাসনিক তদবির, টেন্ডার, নিয়োগ-বদলি কিংবা বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। এছাড়া হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও ঘাট দখলের মতো কর্মকাণ্ডেও কিছু নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের পর জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম বা অপকর্মে জড়ালে তার দায় দল নেবে না। এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব প্রথমে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দেওয়া হবে। সেখানে সমাধান না হলে বিষয়টি জেলা, পরে বিভাগীয় পর্যায়ে যাবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে একক প্রার্থী নির্ধারণে আগেভাগেই সমন্বয় গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনোভাবেই অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থার মতো হবে না। জনগণের মতামতই নির্বাচনের প্রধান ভিত্তি হবে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।

বৈঠকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দূর করে সাংগঠনিক ঐক্য জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির মতো কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান জানান, এটি ছিল একটি সাংগঠনিক বৈঠক। এতে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।