বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

‘দল বাঁচাতে’ শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর অস্তিত্ব সংকটে পড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন তীব্র হতাশা ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাদের মতে, বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দল পরিচালনা করা এখন আর সম্ভব নয়। ‘দল বাঁচাতে’ হলে শীর্ষ নেতাদের এখন গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে ফেরা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। আওয়ামী লীগের […]

নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২০

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর অস্তিত্ব সংকটে পড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন তীব্র হতাশা ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাদের মতে, বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দল পরিচালনা করা এখন আর সম্ভব নয়।

‘দল বাঁচাতে’ হলে শীর্ষ নেতাদের এখন গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে ফেরা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেকের মধ্যে একটি ধারণা ছিল যে, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলে হয়তো তারা এলাকায় ফেরার ও সাংগঠনিক কাজ শুরু করার সুযোগ পাবেন। ঢাকার বাইরের একটি উপজেলার আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম (ছদ্মনাম) নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘মনে করেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আমরা হয়তো একটু এলাকায় ফেরার সুযোগ পাবো। সাংগঠনিক কার্যক্রমও হয়তো ধীরে ধীরে শুরু হবে। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞাও থাকবে না। কিন্তু এখন যেটা হলো, এটা আমরা আশা করি নাই। অবস্থা আগের মতোই।’

তৃণমূলের এই আশাবাদের পেছনে মূলত দুটি কারণ ছিল। প্রথমত, বিএনপির নেতারা বারবার বলছিলেন যে তারা কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের ভোট পেতে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রতি কিছুটা নমনীয় ছিল।

আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসলে হয়তো আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে—এমন আশা থেকেই আমরা সাধারণ ভোটারদের বিএনপিকে ভোট দিতে বলেছিলাম। কিন্তু ভোটের পর বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে গেছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর খুলনা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার কিছু ঝটিকা চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। খুলনার হাদিস পার্কের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়েছিলেন কর্মীরা।

কিন্তু খবর ছড়িয়ে পড়লে পুনরায় হামলার শিকার হয় কার্যালয়টি। বর্তমানে কার্যালয়গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় নেতাদের ভাষায়, আপাতত আত্মগোপনে থেকে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করাই এখন তাদের প্রধান দলীয় কাজ।

তৃণমূলের একজন নেতা জানান, এলাকায় ফিরে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চলাফেরা করতে সমস্যা না হলেও রাজনীতি করার চেষ্টা করলেই বাধা আসছে। বিশেষ করে যারা পদধারী নেতা বা যাদের নামে মামলা আছে, তাদের এলাকায় ফেরা এখনও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃণমূলের দাবি বনাম কেন্দ্রের অবস্থান
মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, শীর্ষ নেতারা সামনে না থাকলে কর্মীদের চাঙ্গা করা সম্ভব নয়। আরিফুল ইসলামের মতে, ‘রাজধানী শহর ঢাকা দখল করতে না পারলে তৃণমূল দখল করে লাভ নাই। আর ঢাকা দখল করতে গেলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব লাগবে। নেতৃবৃন্দের এখন দেশে ফিরে আসা উচিত এবং গ্রেপ্তারের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে হলেও আসা উচিত।’

তবে তৃণমূলের এই চাপের মুখে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম জানান, নেতারা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, ‘নেতাদের ভেতরে দেশের বাইরে অনেকেই আছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বাইরে বসে আওয়ামী লীগকে পরিচালনা করা হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা বাংলাদেশের ভেতরে থেকেই আন্দোলন করছে।’

জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত বিল পাস এবং সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে নাছিম প্রশ্ন তোলেন, ‘জাতীয় সংসদে যে আইনটি পাস করা হলো, তারপর কি দেশে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীর রাজনীতি করা বা কথা বলার সুযোগ আছে? যদি সুযোগ থাকে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়, তখন কোনো নেতা বিদেশে বা আত্মগোপনে থাকবে না।’

আওয়ামী লীগ যে অনুকূল পরিবেশ বা ‘গ্রেপ্তার-নির্যাতন’ মুক্ত রাজনীতির কথা বলছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে সংসদের নতুন আইন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের সংকট কাটছে না। তৃণমূল নেতারা দল বাঁচাতে শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান জানালেও, আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে সেই সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। ফলে দলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৮

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৪

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৮

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৪