আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তিন সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে পুলিশ তাদের ট্রাইব্যুনাল-১ এ নিয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসামি বহনকারী সবুজ রঙের ‘বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান’-টির ছাদ ভাঙা অবস্থায় আদালত চত্বরে ঢোকে। জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে আনার পথে একটি ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে গাড়িটির ছাদে থাকা এসি যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়ে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি বলে পুলিশ জানায়।
হাজির তিন কর্মকর্তা হলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। এই তিনজন বর্তমানে সেনা হেফাজতে ছিলেন।
এ মামলায় পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ১০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআই এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সাবেক মহাপরিচালক ও পরিচালক।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পলাতকদের পক্ষে আগেই স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না আত্মপক্ষ সমর্থনে দায়িত্ব নিলেও পরে অসুস্থতার কারণে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মো. আমির হোসেন।
এর আগে, ২২ অক্টোবর প্রথমবারের মতো এই তিন কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজির করতে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে আদালত তা আমলে নিয়ে সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।