বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

এবার বেরিয়ে এলো সিএমএম রেজাউল করিমের থলের বিড়াল

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের মতো জড়িত ছিলেন বিচারপতিরাও। এবার দুর্নীতির অভিযোগে বহুল আলোচিত ঢাকার সেই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়, যা সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গৃহীত হয়। সোমবার আইন অঙ্গনে এ […]

এবার বেরিয়ে এলো সিএমএম রেজাউল করিমের থলের বিড়াল

এবার বেরিয়ে এলো সিএমএম রেজাউল করিমের থলের বিড়াল

নিউজ ডেস্ক

১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০১

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের মতো জড়িত ছিলেন বিচারপতিরাও। এবার দুর্নীতির অভিযোগে বহুল আলোচিত ঢাকার সেই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়, যা সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গৃহীত হয়।

সোমবার আইন অঙ্গনে এ খবর চাউর হওয়ার পর সবার মধ্যে একধরনের স্বস্তি নেমে আসে। বিশেষ করে তার দ্বারা যারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে বিচার ও আইনসংশ্লিষ্ট কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জানান, আওয়ামী আমলে ঢাকার সিএমএম থাকাবস্থায় রেজাউল করিমের ন্যক্কারজনক দলবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। তিনি যেখানেই কর্মরত ছিলেন, সেখানেই আইন ও বিচার অঙ্গনের অনেকেই তার দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এই দুর্নীতিবাজ বিচারকের কারণে জুডিশিয়াল ক্যাডারের সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। বলতে গেলে তিনি বিচারক হয়েও পদে পদে অবিচার করেছেন। নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছের লোক পরিচয় দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আদালতকে বানিয়েছিলেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। তার কথামতো কাজ না করলেই রোষানলে পড়তে হতো অধীনস্থ বিচারকদের।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম জুডিশিয়াল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যুক্তিযুক্ত মর্মে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম জুডিশিয়াল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধিমালা-২০১৭-এর বিধি ১১ অনুযায়ী রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’ ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে কুমিল্লায় নারী ও শিশু আদালতে বদলি এবং পরবর্তী সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন
পুলিশের আরেক বর্বরতার শিকার কলেজছাত্র হৃদয়
পুলিশের আরেক বর্বরতার শিকার কলেজছাত্র হৃদয়
এর আগে ঘুস গ্রহণ, জামিন বাণিজ্য, মামলায় প্রভাব খাটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বহুবিধ অপরাধের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদে গঠিত মন্ত্রিসভায় আনিসুল হক আইনমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিচার বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাত্রা বাড়তে থাকে। ওই সময় থেকেই মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাসহ অধস্তন আদালতের একাধিক বিচারক মন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে পড়েন। এরপর আস্থাভাজনসংশ্লিষ্ট বিচারকরা নানা ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

এছাড়া ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এক মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে এলে তাকে বেআইনিভাবে ‘অভ্যর্থনা’ জানান রেজাউল করিমসহ কয়েকজন বিচারক। তারা খাসকামরা থেকে বের হয়ে জয়কে গাড়ি থেকে নামিয়ে আদালত কক্ষে নিয়ে যান এবং সাক্ষ্য শেষে তাকে আবার গাড়িতে তুলে দেন। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় আদালতপাড়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সাক্ষী যত বড় ভিআইপি হোক না কেন, কোনো বিচারক এভাবে প্রটোকল দিতে পারেন না। মূলত ওইসময় ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে দলীয় ক্যাডারের মতো তারা এমনটি করেছিলেন। এমন অভিমত প্রকাশ করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিম চৌধুরী আওয়ামী লীগ আমলে ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে আদালতকে বানিয়েছিলেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট এই বিচারক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে বিরোধী দল দমনে ছিলেন অতি-উৎসাহী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মৃত ব্যক্তিকে সাজা প্রদান, নির্বাচনের আগে ১৬১টি রাজনৈতিক মামলায় শুধু পুলিশের সাক্ষ্য নিয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়া হয়। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি ও জামিন প্রদান, ডিজিএফআই-এর ভয় দেখিয়ে অধীনস্থ বিচারকদের জামিন দিতে বাধ্য করা হতো। তার কথামতো কাজ না করলে নেমে আসত নানা ধরনের হয়রানি। অনেককে শাস্তিমূলক বদলি করার ভয়ও দেখাতেন। এমনকি অকথ্য ভাষায় গালগালও করতেন। আবার কাউকে শায়েস্তা করতে মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগপত্র পাঠিয়ে সেটি নথিতে পুটআপ করাতেন। এসব কারণে অনেক সৎ, যোগ্য ও দক্ষ বিচারকরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না। হয়রানি এড়াতে এবং চাকরি রক্ষার স্বার্থে তারা অনেকটা বিবেকের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে বাধ্য হতেন। সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত এই বিচারক এতটাই অর্থলোভী ছিলেন যে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে আদালতের নিলাম সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি তার সুবিধামতো গোপনে নিলাম ডেকে ফায়দা নিতেন। ওই সময় এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সিএমএম কোর্টের অফিস স্টাফরাও ভয়ে কিছু বলতে পারতেন না। সূত্র মনে করে, দুদুক এ সংক্রান্ত নথিপত্র অনুসন্ধান করলে পদে পদে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে।

এছাড়াও বিচারক রেজাউল করিম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিবির হেফাজতে থাকা মামলার আলামত হিসাবে জব্দকৃত একটি ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি ও অন্য একটি যানবাহন অবৈধভাবে নিজের হেফাজতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি হাইকোর্টের আদেশও অমান্য করেন। অপরদিকে দলীয় পৃষ্ঠপোষক বিচারক হিসাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বাচলে সাত কাঠার প্লট পেতে সক্ষম হন। তার সর্বোচ্চ ৫ কাঠা পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি ৭ কাঠা প্লট অনায়াসে পেয়ে যান। তার লোভের এখানেই শেষ নয়। এই বিচারক একটি আবাসন ব্যবসায়ী গ্রুপের মামলায় বিশেষ সুবিধা দিয়ে এর বিনিময়ে রাজধানীতে পাঁচ কাঠার মূল্যবান প্লট নিজের নামে বরাদ্দ নেন।

এদিকে তিনি নিজ জেলা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে শহরে জাকির হোসেন রোডের ইয়াকুব সেন্টারে বড় পরিসরের ফ্ল্যাট কিনেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এসব অভিযোগ দুদক তদন্ত করছে। তারা দেখবে আমার কোনো দোষ আছে কি-না। দুর্নীতির বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল সেখানে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। যা মীমাংসিত তা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রটোকল দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি যেদিন আদালতে আসেন সেদিন এসএসএফ পুরো আদালত কন্ট্রোলে নিয়ে ফেলে। তখন আমি তাদের বলি যেন সবকিছু সফটলি করে। বিচার কাজে যেন বিঘ্ন না ঘটে। এ সময় আমি আমার করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন তিনি (জয়) আসেন। তখন তো আমি না গিয়ে পারি না। এ সময়ের জয় আর সে সময়ের জয় তো এক ছিল না।

সূত্র: যুগান্তর

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।