গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন বলেছেন, ২০২৪ সালে কোনো যুদ্ধ হয়নি; বরং জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের অবৈধ পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীর এই বক্তব্যকে “অসত্য ও মনগড়া” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার ৫৪তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে তৃতীয় দিনের মতো জেরা করা হয়। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১-এ আগামী বুধবারও জেরা অব্যাহত থাকবে।
জেরা চলাকালে আমির হোসেন দাবি করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা নেপথ্যে থেকে শেখ হাসিনাকে অন্যায়ভাবে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিলেন।” এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, “এটি সত্য নয়। কেউ শেখ হাসিনাকে জোর করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেনি।”
আইনজীবী আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টে দেশে কোনো যুদ্ধ হয়নি, মানবতাবিরোধী অপরাধও ঘটেনি।” জবাবে আলমগীর বলেন, “এ দাবি সঠিক নয়। নথিপত্র ও সাক্ষ্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত, ওই সময় সংগঠিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।”
এরপর আমির হোসেন বলেন, “জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের অবৈধ পরিকল্পনার ফল।” তদন্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, “এই দাবি ভিত্তিহীন ও অসত্য। আন্দোলন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত জনঅভ্যুত্থান, কোনো ষড়যন্ত্র নয়।”
জেরার সময় আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, সিরাজগঞ্জ, আশুলিয়া ও যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না। উত্তরে আলমগীর জানান, “এগুলো আমার তদন্তের বিষয় নয়।” ট্রাইব্যুনাল এ সময় আসামিপক্ষকে প্রশ্ন করে জানতে চায়, পুলিশ হত্যার বিষয়ে তারা কোনো মামলা করেছেন কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, “না।” ট্রাইব্যুনাল তখন মন্তব্য করে, “তাহলে মামলা করুন।”
অন্যদিকে, একইদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এ আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলায় কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, “গত ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার ওসি সায়েদ স্যার আমাকে বলেন, ‘রাশেদ, লাশগুলো ঢেকে দাও।’ আমি থানার ব্যানার দিয়ে ঢেকে দিই। পরে শুনি, লাশগুলো পুলিশ ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ওসি সায়েদ, পরিদর্শক মাসুদুর রহমান, নির্মল কুমার দাস, এএসআই বিশ্বজিৎ, কনস্টেবল মুকুল চোকদারসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছিলেন।”
আদালত সূত্রে জানা যায়, আগামী শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত থাকবে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে, জুলাই আন্দোলন সত্যিই ষড়যন্ত্র ছিল কি না—নাকি তা ছিল গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ।