শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আয়নাঘরের ভয়ংকর চিত্র উঠে এল নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলার ১৭ কোটি মানুষের সামনে নতুন দুয়ার খুলেছে। এ সময় নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের কাহিনি। গোপন এ কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতেন রাজবন্দিরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভয়ংকর সেই আয়নাঘরের বন্দিদের দুর্বিষহ জীবনের […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:৫১

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলার ১৭ কোটি মানুষের সামনে নতুন দুয়ার খুলেছে। এ সময় নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের কাহিনি। গোপন এ কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতেন রাজবন্দিরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভয়ংকর সেই আয়নাঘরের বন্দিদের দুর্বিষহ জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আয়নাঘরের নির্যাতনের কারণে কোনো কোনো বন্দি উন্মাদ হয়ে গেছেন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বন্দিশালার কয়েকজন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে তাদের নির্যাতনের ঘটনা জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের শিকার শত শত মানুষের এখনো খোঁজ মেলেনি। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন- বিক্ষোভ বা সভা-সমাবেশ, সড়ক অবরোধ, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষুব্ধ মন্তব্য করার জন্য অনেককে গুম করা হয়েছে।
গুমের শিকার অনেকে গোপন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আবার অনেককে আয়নাঘরের গোপন বন্দিশালায় বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে অনেকে মারা গিয়েছেন। তবে সেখান থেকে আবার কেউ কেউ জীবন নিয়ে ফিরেছেনও।
আয়নাঘরের বন্দি মীর আহমেদ কাসেম আরমান গত আগস্টে মুক্তি পেয়েছেন। এ গোপন বন্দিশালায় তার মতো আইনজীবী ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক, এমনকি মানবাধিকার কর্মীরাও ছিলেন।
গোপন এ বন্দিশালা থেকে মুক্ত হওয়া আরেকজন কয়েকবার স্ট্রোক করেছেন। তিনি মারা গেছেন ভেবে তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করে নিয়েছেন। আরেকজন জানিয়েছেন যে, তার খোঁজে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে ঘুরতে শেষমেশ তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
আয়নাঘরে ঠিক কতজন মানুষ মারা গেছেন তা এখনো অজানা। তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বহু স্বজন এখনো তাদের ফেরার জন্য দিন গুনছেন। তারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ অথবা গুমের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
নিখোঁজ এক ব্যক্তির স্বজন তাসনিম শিপরা বলেন, কী ঘটেছে আমরা তার জবাব চাই। আমার চাচা বেলাল হোসেন ২০১৩ সালে নিখোঁজ হয়েছেন। সম্ভবত তিনি দুনিয়াতে নেই।
সাবেক বন্দিদের তিনজনকে আয়নাঘরের একটি ছবি আঁকার অনুরোধ জানিয়েছিল সংবাদমাদ্যমটি। সেখানে তারা বর্ণনা দিয়ে বলেন, একটি লম্বা করিডোরে আধা ডজন কক্ষ রয়েছে। একটি থেকে অপরটি দূরত্বে থাকলেও তা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। করিডোরের দুই প্রান্তে রয়েছে শৌচাগার। সেখানে একটি দাঁড়িয়ে ব্যবহারের জন্য, আরেকটি বসে ব্যবহারের জন্য। প্রতিটি ঘরে রয়েছে বড় এগজস্ট ফ্যান। নিরাপত্তারক্ষীদের আলাপ যাতে না শোনা যায় এবং বন্দিদের মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত করা যায় সেজন্য এসব ফ্যান ব্যবহার করা হয়েছে।
আরমানের বর্ণনায় আয়নাঘর
মীর আরমান জানান, একদিন ভোর হওয়ার আগে কারারক্ষীরা তার কক্ষে ঢোকেন। এ সময় তার মনে হয়েছিল যে এই মনে হয় সব শেষ হয়ে আসছে।
জানালাবিহীন একটি ঘরে আট বছর বন্দি ছিলেন আরমান। কক্ষটির অবস্থা এমন ছিল যে, সেখানে একেকটা দিনও যেন অন্তহীন রাতের মতো ছিল। তবে ওই দিনটি ছিল ভিন্ন রকমের। ভোরের আলো ফোটার আগে নিরাপত্তারক্ষীরা তার ঘরে ঢুকে নামাজ শেষ করতে বলেন। এ সময় হাতকড়া খুলে চোখের পুরু বাঁধনও খুলে দেন।
আরমান ভেবেছিলেন, তাকে হয়তো মেরে ফেলে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে অথবা নর্দমায় ফেলে দেওয়া হবে। সেদিন তিনিসহ আরও কয়েকজনকে ছোট ভ্যানগাড়িতে তুলে শুয়ে বেঁধে দেন। দুজনের নিচে তাকে লুকিয়ে রাখা হয়। তাদের নিয়ে এক ঘণ্টা গাড়ি ছুটতে থাকে।
অন্য অনেক রাজনৈতিক বন্দির মতো নির্মম ভাগ্য বরণ করতে হয়নি মীর আরমানকে। তাকে ঢাকার একটি নির্জন মাঠে ফেলে যাওয়া হয়। আরমান বলেন, দীর্ঘ অন্ধকার বন্দিজীবনে স্ত্রী ও দুই সন্তানের চিন্তা তাকে পাগল হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। আমি সবসময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যে, আমাদের পৃথিবীতে দেখা না হলেও জান্নাতে যেন একসাথে হতে পারি।
৪১ হাজার বার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো হয় আজমিকে
গোপন এ কারাগারের নির্মম যন্ত্রণার বর্ণনা দিয়েছেন সাবেক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আজমি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের জন্য তাকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গত ৫ আগস্টের পর তিনি গোপন বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
আজমি আট বছর বন্দি ছিলেন। এ সময় অন্তত ৪১ হাজারবার তার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বন্দিজীবনে আকাশ, সূর্য, ঘাস বা গাছপালা দেখিনি। বন্দি হওয়ার পর আমি প্রথমদিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে আলো দেখার চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ সিসিটিভিতে দেখে তা বন্ধ করে দেয়।
গোপন এ কারাগারে জীবন ধারণের পরিবেশ ছিল না। এছাড়া সেখানে কঠোর নজরদারি করা হতো। চার থেকে ছয় মাসে একবার চুল কাটা হতো। জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। তবে বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন বন্দিরা।
শুক্রবার বাচ্চাদের গানের সুর ভেসে আসত
কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মারুফ জামান ২০১৯ সালে আয়নাঘর থেকে মুক্তি পান। এক বছরের বেশি সময় তিনি আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন।
শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ভারতের স্বার্থরক্ষার সমালোচনা করতেন মারুফ জামান। তিনি জানান, আয়নাঘরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনবরত মুখে ঘুষি মারা হতো। ফলে তার দুটি দাঁত পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা তার পোস্ট ও ব্লগের বিভিন্ন বিষয় প্রিন্ট করে আনতেন। পোস্টের নির্দিষ্ট কিছু প্যারা নিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করতেন।
তাদের মধ্যে একজন একদিন মারুফ জামানকে বলেন, আপনার পোস্ট প্রিন্ট করতে আমরা অনেক অর্থ খরচ করেছি। আপনার বাবা কি এসব অর্থ আমাদের ফেরত দিবেন?
পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম দিনের আলো দেখেন মাইকেল
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারকর্মী মাইকেল চাকমা আগস্টে মুক্তি পেয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে ঘুরিয়ে তাকে এক নির্জন বনে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির পর তিনি জানান, পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম দিনের আলো দেখলাম। আমি যখন আলো দেখি তখন দুবার পরীক্ষা করি যে, আমি স্বপ্ন দেখছি নাকি বাস্তবে আছি।
২০১৯ সালে একটি ব্যাংকে ঢোকার সময় তিনি অপহৃত হন। কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদকারীদের কাছে জানতে চাইলে তাদের কাছ থেকে যে জবাব পেয়েছেন তা হলো- রাজনৈতিক প্রতিশোধ। আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। এ সময় মাইকেলের দলের ছাত্র সংগঠন সড়ক অবরোধ করে। সেদিন শেখ হাসিনা এ অবরোধের পেছনে কারা আছে তা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এ অধিকারকর্মী বলেন, ওই ঘটনা শেখ হাসিনাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। আমি সবসময় তাদের কাছে আমার দোষের কথা জানতে চাইতাম। তারা বলতেন, আমি আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনীতি করছি।
আজমির দুর্বিষহ দিন
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমি বলেন, কারাগারে বড় কাপড় দিয়ে চোখ কখনো কখনো এমনভাবে বাঁধা হতো যে নাক আটকে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হতো। এমনকি চোখে ব্যথা হতো। আবদ্ধ ঘরে থাকার কারণে তার দাঁত ক্ষয়ে যায় এবং ত্বকে ঘা দেখা দেয়।
তিনি জানান, এসব নির্যাতনের বাইরেও সারাক্ষণ একটা আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াত। মাঝেমধ্যে মনে হতো যে একদিন রাতে তাকে বাইরে নিয়ে হত্যার পর কোথাও ফেলে দেওয়া হবে। এরপর পত্রিকায় ছাপা হবে যে, পুলিশের সঙ্গে তিনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
আজমি বলেন, ‍তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে মনেপ্রাণে চাইতেন যেন তার মরদেহ কুকুর-বিড়ালে না খায়। পরিবার ও স্বজনদের কাছে যেন তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি এমন অপমান আর যন্ত্রণা ভোগ করেছি যে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেনের একচ্ছত্র প্রভাবে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টির বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার। সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মইন, মাসুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার দায়িত্ব ছিল কমিশনের পক্ষে কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।

তারা যেভাবে নির্দেশনা দিতেন তা বাস্তবায়ন করা। সে সময় বিএনপিকে ভাঙার অপচেষ্টার নেতৃত্বও তিনিই দিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হলো ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করতে যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়, সেগুলো তার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল। ব্যালটের ডিজাইনসহ অন্যান্য প্রিন্টিং তথ্য-উপাত্ত লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে তিনি সরবরাহ করেছিলেন।

শেখ মামুন তখন ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ড. এ টি এম শামসুল হুদা ও অপর কমিশনার ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সচিব ছিলেন হুমায়ূন কবির। মইন, মাসুদদের প্রভাবে এই তিনজনকে সব সময় চাপে রাখতেন সাখাওয়াত। সে কারণে সাখাওয়াতের সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কিছুই করার ছিল না।

এ সময় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্পের পিডি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। যুগ্ম সচিব ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কমিশনে এই দুইজনকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়। সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মইন, মাসুদ ও শেখ মামুনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে যেসব অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে অর্ন্তবর্তী সরকারে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে নানান কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় সরকার বিব্রত হলে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পদত্যাগের হুমকি দেন।

কিন্তু সরকারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তরে তার কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্যপ্রমাণ থাকার কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা তাকে আর আস্থায় নিতে পারেননি। সে কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো আলোচনায়ও তাকে রাখা হয়নি। অবশ্য কিচেন কেবিনেট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাকে না রাখার ব্যাপারে তিনি নিজেই সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সেই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর অন্য উপদেষ্টারা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন যা করেছেন, সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য তিনি অর্ন্তবর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বক্তব্য দিয়ে বিএনপির কাছে ভালো থাকার অপচেষ্টা করেছেন।’

এদিকে অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তার পুত্র এম সাফাক হোসেন মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডেও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল সাফাক হোসেনের। তার নেপথ্য নেতৃত্বেই চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়।

এ কাজ করার জন্য অনেক বড় লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালের পরিবহন টার্মিনাল প্রকল্পের মাটি ভরাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য কাজের সব নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন। তালতলা ইয়ার্ড নির্মাণের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেটে ক্যামিক্যাল শেড নির্মাণকাজেও হস্তক্ষেপ করেন সাফাক। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটা সিভিল কাজের জন্য ৫ শতাংশ, ডিপিএমের (সরাসরি টেন্ডার পদ্ধতি) জন্য ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন সাফাক। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মে জড়িত ছিলেন উপদেষ্টাপুত্র। তিনি কাজের ধরনভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। সাখাওয়াতপুত্রের নানান দুর্নীতির খবর এখন চট্টগ্রাম বন্দরে সবার মুখে মুখে। এসব অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।