বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আয়নাঘরের ভয়ংকর চিত্র উঠে এল নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলার ১৭ কোটি মানুষের সামনে নতুন দুয়ার খুলেছে। এ সময় নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের কাহিনি। গোপন এ কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতেন রাজবন্দিরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভয়ংকর সেই আয়নাঘরের বন্দিদের দুর্বিষহ জীবনের […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:৫১

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলার ১৭ কোটি মানুষের সামনে নতুন দুয়ার খুলেছে। এ সময় নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের কাহিনি। গোপন এ কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতেন রাজবন্দিরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভয়ংকর সেই আয়নাঘরের বন্দিদের দুর্বিষহ জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আয়নাঘরের নির্যাতনের কারণে কোনো কোনো বন্দি উন্মাদ হয়ে গেছেন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বন্দিশালার কয়েকজন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে তাদের নির্যাতনের ঘটনা জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের শিকার শত শত মানুষের এখনো খোঁজ মেলেনি। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন- বিক্ষোভ বা সভা-সমাবেশ, সড়ক অবরোধ, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষুব্ধ মন্তব্য করার জন্য অনেককে গুম করা হয়েছে।
গুমের শিকার অনেকে গোপন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আবার অনেককে আয়নাঘরের গোপন বন্দিশালায় বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে অনেকে মারা গিয়েছেন। তবে সেখান থেকে আবার কেউ কেউ জীবন নিয়ে ফিরেছেনও।
আয়নাঘরের বন্দি মীর আহমেদ কাসেম আরমান গত আগস্টে মুক্তি পেয়েছেন। এ গোপন বন্দিশালায় তার মতো আইনজীবী ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক, এমনকি মানবাধিকার কর্মীরাও ছিলেন।
গোপন এ বন্দিশালা থেকে মুক্ত হওয়া আরেকজন কয়েকবার স্ট্রোক করেছেন। তিনি মারা গেছেন ভেবে তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করে নিয়েছেন। আরেকজন জানিয়েছেন যে, তার খোঁজে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে ঘুরতে শেষমেশ তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
আয়নাঘরে ঠিক কতজন মানুষ মারা গেছেন তা এখনো অজানা। তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বহু স্বজন এখনো তাদের ফেরার জন্য দিন গুনছেন। তারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ অথবা গুমের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
নিখোঁজ এক ব্যক্তির স্বজন তাসনিম শিপরা বলেন, কী ঘটেছে আমরা তার জবাব চাই। আমার চাচা বেলাল হোসেন ২০১৩ সালে নিখোঁজ হয়েছেন। সম্ভবত তিনি দুনিয়াতে নেই।
সাবেক বন্দিদের তিনজনকে আয়নাঘরের একটি ছবি আঁকার অনুরোধ জানিয়েছিল সংবাদমাদ্যমটি। সেখানে তারা বর্ণনা দিয়ে বলেন, একটি লম্বা করিডোরে আধা ডজন কক্ষ রয়েছে। একটি থেকে অপরটি দূরত্বে থাকলেও তা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। করিডোরের দুই প্রান্তে রয়েছে শৌচাগার। সেখানে একটি দাঁড়িয়ে ব্যবহারের জন্য, আরেকটি বসে ব্যবহারের জন্য। প্রতিটি ঘরে রয়েছে বড় এগজস্ট ফ্যান। নিরাপত্তারক্ষীদের আলাপ যাতে না শোনা যায় এবং বন্দিদের মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত করা যায় সেজন্য এসব ফ্যান ব্যবহার করা হয়েছে।
আরমানের বর্ণনায় আয়নাঘর
মীর আরমান জানান, একদিন ভোর হওয়ার আগে কারারক্ষীরা তার কক্ষে ঢোকেন। এ সময় তার মনে হয়েছিল যে এই মনে হয় সব শেষ হয়ে আসছে।
জানালাবিহীন একটি ঘরে আট বছর বন্দি ছিলেন আরমান। কক্ষটির অবস্থা এমন ছিল যে, সেখানে একেকটা দিনও যেন অন্তহীন রাতের মতো ছিল। তবে ওই দিনটি ছিল ভিন্ন রকমের। ভোরের আলো ফোটার আগে নিরাপত্তারক্ষীরা তার ঘরে ঢুকে নামাজ শেষ করতে বলেন। এ সময় হাতকড়া খুলে চোখের পুরু বাঁধনও খুলে দেন।
আরমান ভেবেছিলেন, তাকে হয়তো মেরে ফেলে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে অথবা নর্দমায় ফেলে দেওয়া হবে। সেদিন তিনিসহ আরও কয়েকজনকে ছোট ভ্যানগাড়িতে তুলে শুয়ে বেঁধে দেন। দুজনের নিচে তাকে লুকিয়ে রাখা হয়। তাদের নিয়ে এক ঘণ্টা গাড়ি ছুটতে থাকে।
অন্য অনেক রাজনৈতিক বন্দির মতো নির্মম ভাগ্য বরণ করতে হয়নি মীর আরমানকে। তাকে ঢাকার একটি নির্জন মাঠে ফেলে যাওয়া হয়। আরমান বলেন, দীর্ঘ অন্ধকার বন্দিজীবনে স্ত্রী ও দুই সন্তানের চিন্তা তাকে পাগল হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। আমি সবসময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যে, আমাদের পৃথিবীতে দেখা না হলেও জান্নাতে যেন একসাথে হতে পারি।
৪১ হাজার বার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো হয় আজমিকে
গোপন এ কারাগারের নির্মম যন্ত্রণার বর্ণনা দিয়েছেন সাবেক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আজমি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের জন্য তাকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গত ৫ আগস্টের পর তিনি গোপন বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
আজমি আট বছর বন্দি ছিলেন। এ সময় অন্তত ৪১ হাজারবার তার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বন্দিজীবনে আকাশ, সূর্য, ঘাস বা গাছপালা দেখিনি। বন্দি হওয়ার পর আমি প্রথমদিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে আলো দেখার চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ সিসিটিভিতে দেখে তা বন্ধ করে দেয়।
গোপন এ কারাগারে জীবন ধারণের পরিবেশ ছিল না। এছাড়া সেখানে কঠোর নজরদারি করা হতো। চার থেকে ছয় মাসে একবার চুল কাটা হতো। জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। তবে বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন বন্দিরা।
শুক্রবার বাচ্চাদের গানের সুর ভেসে আসত
কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মারুফ জামান ২০১৯ সালে আয়নাঘর থেকে মুক্তি পান। এক বছরের বেশি সময় তিনি আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন।
শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ভারতের স্বার্থরক্ষার সমালোচনা করতেন মারুফ জামান। তিনি জানান, আয়নাঘরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনবরত মুখে ঘুষি মারা হতো। ফলে তার দুটি দাঁত পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা তার পোস্ট ও ব্লগের বিভিন্ন বিষয় প্রিন্ট করে আনতেন। পোস্টের নির্দিষ্ট কিছু প্যারা নিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করতেন।
তাদের মধ্যে একজন একদিন মারুফ জামানকে বলেন, আপনার পোস্ট প্রিন্ট করতে আমরা অনেক অর্থ খরচ করেছি। আপনার বাবা কি এসব অর্থ আমাদের ফেরত দিবেন?
পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম দিনের আলো দেখেন মাইকেল
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারকর্মী মাইকেল চাকমা আগস্টে মুক্তি পেয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে ঘুরিয়ে তাকে এক নির্জন বনে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির পর তিনি জানান, পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম দিনের আলো দেখলাম। আমি যখন আলো দেখি তখন দুবার পরীক্ষা করি যে, আমি স্বপ্ন দেখছি নাকি বাস্তবে আছি।
২০১৯ সালে একটি ব্যাংকে ঢোকার সময় তিনি অপহৃত হন। কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদকারীদের কাছে জানতে চাইলে তাদের কাছ থেকে যে জবাব পেয়েছেন তা হলো- রাজনৈতিক প্রতিশোধ। আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। এ সময় মাইকেলের দলের ছাত্র সংগঠন সড়ক অবরোধ করে। সেদিন শেখ হাসিনা এ অবরোধের পেছনে কারা আছে তা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এ অধিকারকর্মী বলেন, ওই ঘটনা শেখ হাসিনাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। আমি সবসময় তাদের কাছে আমার দোষের কথা জানতে চাইতাম। তারা বলতেন, আমি আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনীতি করছি।
আজমির দুর্বিষহ দিন
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমি বলেন, কারাগারে বড় কাপড় দিয়ে চোখ কখনো কখনো এমনভাবে বাঁধা হতো যে নাক আটকে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হতো। এমনকি চোখে ব্যথা হতো। আবদ্ধ ঘরে থাকার কারণে তার দাঁত ক্ষয়ে যায় এবং ত্বকে ঘা দেখা দেয়।
তিনি জানান, এসব নির্যাতনের বাইরেও সারাক্ষণ একটা আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াত। মাঝেমধ্যে মনে হতো যে একদিন রাতে তাকে বাইরে নিয়ে হত্যার পর কোথাও ফেলে দেওয়া হবে। এরপর পত্রিকায় ছাপা হবে যে, পুলিশের সঙ্গে তিনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
আজমি বলেন, ‍তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে মনেপ্রাণে চাইতেন যেন তার মরদেহ কুকুর-বিড়ালে না খায়। পরিবার ও স্বজনদের কাছে যেন তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি এমন অপমান আর যন্ত্রণা ভোগ করেছি যে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।