হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
রোববার (১ নভেম্বর) তাঁর জামিন আবেদনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী শিশির মনির।
এর আগে একই মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করেন।
এ ছাড়া গত ৪ অক্টোবর এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবীরা। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় পরদিন ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্টে যান। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় সেখানে ট্রলির সাময়িক সংকট তৈরি হয় এবং দীর্ঘ লাইন পড়ে।
এ সময় কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি লাগেজ পেতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।