সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

স্থানীয় নির্বাচনে দলের জনপ্রিয় ও জনসমর্থন রয়েছে, এমন নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের জনপ্রিয় ও জনসমর্থন রয়েছে, এমন নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় […]

স্থানীয় নির্বাচনে দলের জনপ্রিয় ও জনসমর্থন রয়েছে, এমন নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের জনপ্রিয় ও জনসমর্থন রয়েছে, এমন নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে সংসদ সদস্যদের।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য দেন। দলের মধ্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা জোরদার করার পাশাপাশি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভালো ফল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় অংশ নেওয়া একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে জয়ী হতে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ ২০ জনের বেশি সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখেন।

সভায় অংশ নেওয়া আরেক সংসদ সদস্য বলেন, বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী বাছাই এবং দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি গত সাত মাসে সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ওপর নির্ভর না থেকে স্ব-স্ব উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই সংসদ সদস্য আরও বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিজ নিজ এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৮ নভেম্বর থেকে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়েছে। অধিবেশন শুরুর আগে আবারও সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভা ডাকা হবে।

এছাড়া সভায় দলীয় সংসদ সদস্যদের স্বৈরাচারী না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জনগণের সঙ্গে নিয়ে চলতে বলা হয়। কারণ আগামীতেও নির্বাচনে জয়ী হতে হবে।

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অপরাধী বা চাঁদাবাজ যে-ই হোক, এমনকি দলীয় পরিচয় থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

তারা বলেন, এ সময় রাড্ডা ঘটনার অভিযোগে অভিযুক্ত দলের একজন নারী সংসদ সদস্যের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়।

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য একটি মহল নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলেও সভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান একজন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দুইজন সংসদ সদস্য জানান, বিশেষভাবে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সভার আরেকটি সূত্র জানায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন যখনই হোক, এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগ্য, ত্যাগী ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

কেউ অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয় পদ বা পরিচয় বিবেচনা না করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠক শেষ হয়।

চিফ হুইপ আরও বলেন, সরকারের কার্যক্রম নিয়ে জনগণের কাছে সরকার জবাবদিহি করবে। সভায় সংসদ সদস্যদের নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনে দল থেকে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি।

এছাড়া আগামী মাসে সংসদ অধিবেশন আবার বসবে বলেও জানান চিফ হুইপ।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।