শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

দিনে ২৫ কেজি ঘাস, আধা মণ পানির সঙ্গে ছোলা-ভুসি খাচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি অ্যালবিনো জাতের সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে। বিশেষ এই প্রাণীটির দৈনন্দিন খাবার-দাবার ও পরিচর্যায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজরদারি রাখছে। জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, এই আলোচিত মহিষটি প্রতিদিন গড়ে ২৫ কেজি নেপিয়ার জাতের সবুজ ঘাস সাবাড় করছে। এর পাশাপাশি তাকে দৈনিক পাঁচ কেজি করে […]

নিউজ ডেস্ক

২৯ মে ২০২৬, ২২:৫৫

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি অ্যালবিনো জাতের সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে। বিশেষ এই প্রাণীটির দৈনন্দিন খাবার-দাবার ও পরিচর্যায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজরদারি রাখছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, এই আলোচিত মহিষটি প্রতিদিন গড়ে ২৫ কেজি নেপিয়ার জাতের সবুজ ঘাস সাবাড় করছে। এর পাশাপাশি তাকে দৈনিক পাঁচ কেজি করে ছোলা ও ভুসির মিশ্রণ দেওয়া হচ্ছে।

খাবার হজম ও শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে প্রাণীটি প্রতিদিন প্রায় আধা মণ (২০ কেজি) পানি পান করছে। বৃহস্পতিবারের মতো আজ শুক্রবারও তাকে সমপরিমাণ খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুসারে এই বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও কিউরেটর উল্লেখ করেন।

গত বুধবার রাতে অলৌকিক ও বৈচিত্র্যময় চেহারার এই মহিষটিকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করার পর থেকেই শুরু হয়েছে নিবিড় যত্ন।

চিড়িয়াখানার রুটিন অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম দফায় ছোলা ও ভুসিজাতীয় ভারী খাবার পরিবেশন করা হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে দেওয়া হয় প্রথম দফার ঘাস। দুপুরের বিরতি শেষে বেলা ২টার পর তাকে দ্বিতীয় দফায় ঘাস খেতে দেওয়া হয় এবং বিকেল ৩টার দিকে দেওয়া হয় দিনের শেষ খাবার হিসেবে ছোলা-ভুসি।

বিকেল ৩টার এই খাবারের পর প্রাণীটিকে আর কোনো ভারী খাবার দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে এই বিশেষ অতিথিকে। খাঁচার বাইরে তার পরিচিতি ফলকে বাংলা অক্ষরে ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’ এবং ইংরেজিতে ‘অ্যালবিনো বাফেলো’ লিখে ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাকা মেঝে আর ওপরে টিনের ছাউনি দেওয়া এই খাঁচাটি বেশ বড় হলেও এর পাশেই রয়েছে একটি উন্মুক্ত খাঁচা, যেখানে একটি গয়াল আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে গয়ালের মতো উন্মুক্ত না রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিছুটা বেঁধে রাখা হয়েছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, মহিষটি সম্পূর্ণ গৃহপালিত পরিবেশে বড় হওয়ায় এভাবে বেঁধে রাখাতেই সে বেশি অভ্যস্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। খাঁচার ঘরের কাছাকাছি একটি গাছ থাকলেও তীব্র দুপুরে তার ছায়া মহিষটির আশ্রয়ের ওপর পড়ে না। ফলে প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি দিতে চিড়িয়াখানার কর্মীরা পাইপ দিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার তাকে নিয়মিত গোসল করিয়ে দিচ্ছেন।

কিউরেটর আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, তীব্র তাপপ্রবাহের হাত থেকে প্রাণীটিকে রক্ষা করতে খুব শীঘ্রই খাঁচার ভেতরে একটি স্ট্যান্ডফ্যানের ব্যবস্থা করা হবে।

নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে মহিষটিকে খাঁচার মূল সীমানা প্রাচীর থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট দূরত্বে বেঁধে রাখা হয়েছে। তবে এই দূরত্বের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা কিছুটা হতাশ হচ্ছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একনজর দেখতে মানুষের ব্যাপক ঢল নামে।

এই ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিড়িয়াখানায় আসার পেছনের গল্পটি বেশ নাটকীয়। মূলত নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার জিয়া উদ্দিন মৃধার মালিকানাধীন ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই মহিষটির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের সঙ্গে মহিষটির মাথার চুলের অদ্ভুত মিল থাকায় জিয়া উদ্দিনের ভাই শখ করে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। গত ১২ মে প্রথম আলোতে এই মহিষটিকে নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে কোরবানির উদ্দেশ্যে কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মহিষটি কিনে নেন এবং গত সোমবার বিকেলে সেটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত এই প্রাণীটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঈদের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনায় পুলিশ মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে মহিষটিকে উদ্ধার করে।

প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় নেওয়া হলেও পরবর্তীতে চূড়ান্তভাবে এই ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারণ করা হয় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।