সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, সামনে এলো নতুন ডিএনএ তথ্য

দীর্ঘ ১০ বছর পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তনুর মরদেহ উদ্ধারের সময় জব্দ করা এক টুকরো কাপড়ে রক্তের উপস্থিতি এবং তাতে অজ্ঞাতনামা আরও এক ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জব্দকৃত কাপড়চোপড়ে মোট চারজনের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেল। এর ফলে মামলায় […]

তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, সামনে এলো নতুন ডিএনএ তথ্য

তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, সামনে এলো নতুন ডিএনএ তথ্য

নিউজ ডেস্ক

১৮ মে ২০২৬, ১০:৪০

দীর্ঘ ১০ বছর পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তনুর মরদেহ উদ্ধারের সময় জব্দ করা এক টুকরো কাপড়ে রক্তের উপস্থিতি এবং তাতে অজ্ঞাতনামা আরও এক ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জব্দকৃত কাপড়চোপড়ে মোট চারজনের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেল। এর ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে চারজনে।

এর আগে তনুর ওড়না, সালোয়ার ও অন্তর্বাসে ভিন্ন ভিন্ন তিন ব্যক্তির বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। সেসব আলামতের বিভিন্ন স্থানে তিনজন ভিন্ন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইলও পেয়েছিল অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যায় সেনানিবাসের আরও অনেকে জড়িত’।

কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার কালভার্টের পাশের ঝোঁপ থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় ১১ ধরনের আলামত জব্দ করা হয়। সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশে পাঠানো হয়। দশ বছর পর এসব পরীক্ষার ৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে দাখিল করেন মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তরীকুল ইসলাম।
সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশের ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় মোট ২৪টি আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে নিহত তনুর কালো, লাল ও হলুদ প্রিন্টের কামিজ, বেগুনি রঙের ওড়না, কালো রঙের সালোয়ার, লাল ও হালকা বেগুনি রঙের অন্তর্বাস, তনুর ৪টি দাঁত, ভ্যাজাইনাল সোয়াব, ৫ ফুট ও ১০ ফুট লম্বা খাকি ও হলুদ টেপ, পুরুষের একজোড়া ছেঁড়া জুতা, বলপেন এবং এক টুকরো কাপড় ছিল। বাকি ১৩টি নমুনা ছিল সন্দেহভাজন ১৩ ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল।

নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ওড়না, সালোয়ার ও আন্ডারওয়্যারে মানুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এসব আলামতের বিভিন্ন স্থানে তিনজন ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এক টুকরো কাপড়ে রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তাতে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। সালোয়ার, ওড়না ও আন্ডারওয়্যারে পাওয়া বীর্যের সঙ্গে এই ডিএনএ প্রোফাইলের মিল নেই।’ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘তনুর দাঁত থেকে একজন নারীর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। কামিজ ও ব্রাতে মানুষের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এ দুটি তনুর দাঁতে পাওয়া একজন নারীর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।’ অর্থাৎ এগুলো তনুরই রক্ত। সেই সঙ্গে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘কামিজ, ব্রা, ভ্যাজাইনাল সোয়াব ও কাপড়ে বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।’

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম গত ২৩ এপ্রিল প্রতিবেদনটি হাতে পান এবং ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করে তা নথিভুক্ত করার আবেদন করেন। এর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল এবং তারা সন্দেহভাজন তিনজনকে ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করার তথ্য দিয়েছিল। কিন্তু সে সময় কারও নাম গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। সেই সঙ্গে সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তির ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করে ম্যাচিং করা হয়নি।
আদালতে তলবের পর তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলামের দাখিল করা আবেদনে লেখা ওই সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি হলেন- কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটার মো. জাহিদুজ্জামান (৩৮), স্ট্যাটিক সিগন্যালের ওয়ারেন্ট অফিসার টাঙ্গাইল সদরের হোগড়া গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান (৪২) এবং ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক কুমিল্লার বুড়িচংয়ের পীরযাত্রাপুরের গোবিন্দপুর গ্রামের মো. শাহিন আলম (২৭)।

সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি জানতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলামকে আদালতে তলব করা হয় গত ৬ এপ্রিল। তিনি আদালতে হাজির হয়ে সন্দেহভাজন ওই তিনজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চাইলে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক অনুমতি প্রদান করেন। এরই মধ্যে পিবিআই ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরের ১০৮১ নম্বর বাসা থেকে বর্তমানে অবসরে থাকা ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। গত ২২ এপ্রিল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়; সেই সঙ্গে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম ওই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো তথ্য পেয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি।

সূত্র আরও জানায়, সন্দেহভাজন বাকি দুইজনের একজন বিদেশে এবং আরেকজন ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে লাপাত্তা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নতুন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়ার পর মামলার তদন্তে নতুন মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, ‘সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত স্থানে অনেকেই তার মেয়ে তনু হত্যায় জড়িত।’

ইয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে হত্যায় সন্দেহভাজন তিনজন ছাড়াও আরও অনেকে জড়িত। আমি ছয়জনের নাম লিখিতভাবে দিয়েছি। তারা সেগুলো আমলে নেয় না। কারণ, তালিকায় শীর্ষ সেনাকর্মকর্তারা রয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাডাম আমার মেয়েকে হুমকি দিয়েছিল- দেখে নেবেন বলে। তাকে দিয়ে অনুষ্ঠান করাত। সে বলত, আমি তো এখন অন্য কলেজে পড়ি। যখন লাশ পাই, তখন আমার মেয়ের চুল কাটা ছিল। মেয়েকে উদ্ধার করে কুমিল্লা সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিলেন, তাকে আবার কেন এনেছেন? সে তো মারা গেছে! আমি তো শুনে অবাক হয়েছি।’
গত ১০ বছরে সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা চারটি তদন্ত সংস্থা ও ছয়জন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। কিন্তু তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে তলবের পর মামলার তদন্তে গতি আসে এবং একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগামী ৮ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তরীকুল ইসলাম ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি গ্রেপ্তার আসামি হাফিজুর রহমান ছাড়া বাকি দুইজন মো. জাহিদুজ্জামান ও শাহিন আলমের দেশ থেকে যাওয়া ও আসার সময় গ্রেপ্তার ও তথ্য প্রদানের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছেন।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নতুন একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়ায় এখন সন্দেহভাজনের সংখ্যা ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের তিনজনের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে ৩ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এখনো আসেনি। বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

‘এই দুইজন দেশ ছেড়েছেন বলে তথ্য রয়েছে’- এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যাচাই করে দেখছি। খোঁজখবর নিচ্ছি এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, নতুন ডিএনএ প্রোফাইলের ব্যক্তির কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার কালা ট্যাঙ্কি-সংলগ্ন কালভার্টের পাশের পশ্চিম দিকের ঝোঁপে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। তনু ও তার পরিবার সেনানিবাসের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বসবাস করতেন। ঘটনার সময় তিনি টিউশনি করার জন্য ১২ ইঞ্জিনিয়ার স্টাফ কোয়ার্টারে সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামানের বাসায় যান। রাত ১০টার দিকেও ফিরে আসেননি। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সোহাগী জাহান তনুকে উদ্ধার করা হয় এবং কুমিল্লা সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। একদিন পর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে চলে ব্যাপক টালবাহানা। দুই দফায় করা হয় ময়নাতদন্ত। ডা. শারমিন সুলতানার করা প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত না পাওয়া এবং মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করতে না পারার কথা বলা হয়। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা, কুমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. করুনা রানী কর্মকার ও প্রভাষক ডা. ওমর ফারুকের তিন সদস্যের বোর্ড জানায় ‘মৃত্যুর পূর্বে তনুর ‘সেক্সচ্যুয়াল ইন্টারকোর্স’ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা আরও জানান, যেহেতু ১০ দিন পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল, তাই নতুন করে কোনো ইনজুরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে উত্তোলনের পর দ্বিতীয় সুরতহালে তার হাত-পা ও গলার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ওসি একেএম মনজুর হোসেন জানিয়েছিলেন, ‘লাশ ডিকম্পোজ হয়ে গেছে। হাতে, পায়ে ও গলায় রক্ত জমাট বাঁধা পাওয়া গেছে’। কেন প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি এবং দ্বিতীয় তদন্তে পাওয়া গেল, এ ব্যাপারে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। সে সময় একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার বেশ তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সে সময় মিজান নামে একজনকে গুম করা হয়েছিল। পরে সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তদন্ত সংস্থা সিআইডি তিনজন সেনাসদস্যকে ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষায় তার কাপড়ে তিনজনের শুক্রাণুর উপস্থিতির কথা জানায়। সে সময় মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডির আবদুল কাহার আখন্দ। এরপর মামলাটির তদন্ত আর এগোয়নি।

কুমিল্লা সেনানিবাসের সীমানা প্রাচীরের ১০ গজের মধ্যে জঙ্গলে পড়ে ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ। সেখানে পাশ দিয়েই চলাচল করতেন আশপাশের মানুষ। সে কারণে গ্রামের মেঠোপথের চিহ্ন পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে— কুমিল্লা সেনানিবাসের সেনানিবাস পরিষদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের ৩৮/১ পাহাড় হাউসের যে বাসায় তনুর পরিবার থাকত, সে স্থান থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ গজ। সেখান থেকে চিৎকার দিলে কলোনির কেউ না কেউ শুনতে পাওয়ার কথা।

যে কালভার্টের পূর্বপাশে তনুর একটি জুতা পাওয়া যায়, সেই কালভার্টটির পশ্চিম পাশের রাস্তার ধারে তনুর মোবাইল ফোনের কাভার এবং সেই কাভার বরাবর প্রায় ৩০ গজ ভেতরে তার আরও একটি জুতা পাওয়া যায়। সেই জুতা পাওয়ার স্থান থেকে আরও দক্ষিণে জঙ্গলের ভেতরে পাওয়া যায় তনুর লাশ। সেখানে যেতে হলে আবার সড়কে উঠতে হবে অথবা জঙ্গল মাড়িয়ে যেতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তনুর জুতা ছুড়ে জঙ্গলে ফেলা হতে পারে।

নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন সে সময় জানান, ‘তনুর জুতা যখন আমি ও আমার প্রতিবেশী শিক্ষক পাই, তখন আমরা আশপাশে খুঁজতে থাকি এবং জঙ্গলের ভেতরে তার লাশ পাই। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে সীমানা প্রাচীরের পাশের যে মেঠোপথ, সে পথের দিকে তনুর দুই পা ছিল এবং তার চোখ খোলা ছিল। এ সময় আমি নাকে রক্ত ও মাথার পেছনে জখম দেখতে পাই। তার ওড়না পাশে পড়ে ছিল, তবে কামিজ ও সালোয়ার পরা ছিল।’

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেনের একচ্ছত্র প্রভাবে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টির বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার। সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মইন, মাসুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার দায়িত্ব ছিল কমিশনের পক্ষে কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।

তারা যেভাবে নির্দেশনা দিতেন তা বাস্তবায়ন করা। সে সময় বিএনপিকে ভাঙার অপচেষ্টার নেতৃত্বও তিনিই দিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হলো ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করতে যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়, সেগুলো তার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল। ব্যালটের ডিজাইনসহ অন্যান্য প্রিন্টিং তথ্য-উপাত্ত লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে তিনি সরবরাহ করেছিলেন।

শেখ মামুন তখন ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ড. এ টি এম শামসুল হুদা ও অপর কমিশনার ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সচিব ছিলেন হুমায়ূন কবির। মইন, মাসুদদের প্রভাবে এই তিনজনকে সব সময় চাপে রাখতেন সাখাওয়াত। সে কারণে সাখাওয়াতের সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কিছুই করার ছিল না।

এ সময় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্পের পিডি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। যুগ্ম সচিব ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কমিশনে এই দুইজনকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়। সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মইন, মাসুদ ও শেখ মামুনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে যেসব অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে অর্ন্তবর্তী সরকারে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে নানান কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় সরকার বিব্রত হলে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পদত্যাগের হুমকি দেন।

কিন্তু সরকারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তরে তার কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্যপ্রমাণ থাকার কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা তাকে আর আস্থায় নিতে পারেননি। সে কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো আলোচনায়ও তাকে রাখা হয়নি। অবশ্য কিচেন কেবিনেট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাকে না রাখার ব্যাপারে তিনি নিজেই সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সেই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর অন্য উপদেষ্টারা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন যা করেছেন, সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য তিনি অর্ন্তবর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বক্তব্য দিয়ে বিএনপির কাছে ভালো থাকার অপচেষ্টা করেছেন।’

এদিকে অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তার পুত্র এম সাফাক হোসেন মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডেও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল সাফাক হোসেনের। তার নেপথ্য নেতৃত্বেই চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়।

এ কাজ করার জন্য অনেক বড় লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালের পরিবহন টার্মিনাল প্রকল্পের মাটি ভরাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য কাজের সব নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন। তালতলা ইয়ার্ড নির্মাণের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেটে ক্যামিক্যাল শেড নির্মাণকাজেও হস্তক্ষেপ করেন সাফাক। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটা সিভিল কাজের জন্য ৫ শতাংশ, ডিপিএমের (সরাসরি টেন্ডার পদ্ধতি) জন্য ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন সাফাক। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মে জড়িত ছিলেন উপদেষ্টাপুত্র। তিনি কাজের ধরনভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। সাখাওয়াতপুত্রের নানান দুর্নীতির খবর এখন চট্টগ্রাম বন্দরে সবার মুখে মুখে। এসব অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।