জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ১৯৭১ সালের কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।
গয়েশ্বর বলেন, একাত্তরের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে কোনো সমস্যা নেই। তার মতে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলে কেউ নিন্দিত হয় না; বরং ভুলকে আঁকড়ে ধরে রাখাই নিন্দনীয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা সেই সময় ভুল করেছে, তারা কেন তা স্বীকার করতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, একটি জাতির মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা চলমান প্রক্রিয়া। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর কথাও তুলে ধরেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ছিল এবং কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের এখনো বিচার হয়নি। তিনি মনে করেন, ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নের জন্য এসব বিষয় খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তার মুক্তিযুদ্ধের কোনো সনদ নেই এবং তিনি কখনো ব্যক্তিগতভাবে কোনো স্বীকৃতি প্রত্যাশা করেন না। তবে জাতির স্বার্থে সত্যকে স্বীকার করা এবং ভুল সংশোধনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।