প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিকভাবে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে যাওয়ার আগে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য ও গণপূর্তসহ একাধিক মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
রোববার সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর সচিবালয়ে এসে তিনি সরাসরি নিজের দপ্তরে না গিয়ে বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত মন্ত্রণালয়গুলোতে যান। ৬ নম্বর ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানি সম্পদ, নারী ও শিশু বিষয়ক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ঘুরে দেখেন। পরে তিনি ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, অন্তত আটটি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ফিরে যান।
এ আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—অনেকে এতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কেউ কেউ কিছুটা উদ্বেগও অনুভব করেছেন। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবারও তিনি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করতে পারেন, যদিও কোন কোন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করা হবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পূর্ণ করেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলটি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে।
সরকার গঠনের পর প্রথম মাসেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের চার্জ প্রত্যাহার, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, ই-হেলথ সেবা সম্প্রসারণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান, কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন কর্মসূচি এবং গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর উদ্যোগ। এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সরল জীবনযাপন, প্রটোকল কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে। সচিবালয়ে তার সকালবেলা উপস্থিতি ও সরাসরি তদারকি সরকারি কাজে গতিশীলতা এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে নতুন সরকারকে শুরুতেই বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তারপরও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক পরিদর্শন প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।